নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সালকিয়ায় অরবিন্দ রোডের এক আবাসন থেকে গত শুক্রবার এক বৃদ্ধের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখনও সন্দেহভাজন যুবকের খোঁজ মেলেনি। ওই যুবকের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে হাওড়া সিটি পুলিস। আর্থিক লেনদেন নিয়ে শত্রুতা, নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন তদন্তকারীরা। শনিবার রাতেই মৃত অসীম দে’র পরিবারের তরফে গোলাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। রবিবার ওই ফ্ল্যাটে নমুনা সংগ্রহ করতে যান ফরেনসিক টিমের সদস্যরা। ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে পোড়া সিগারেট, খাবারের অবশিষ্ট অংশ।
শুক্রবার সকালে গোলাবাড়ি থানা এলাকার অরবিন্দ রোডের একটি আবাসনের পাঁচতলার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় অসীম দে (৬৩) নামের এক বৃদ্ধের দেহ। বৃদ্ধের শরীর থেকে খোয়া যায় সোনার চেন, আংটি। তাঁর মোবাইল ফোনেরও খোঁজ মেলেনি। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সময় সালকিয়ায় তাঁর লেদের ফ্যাক্টরি ছিল। বর্তমানে কাজকর্ম কিছুই করতেন না তিনি। অন্যত্র বাড়ি থাকলেও মাঝেমধ্যে অরবিন্দ রোডের ফাঁকা ফ্ল্যাটে এসে একাই থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৃদ্ধ ওই ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, ফ্ল্যাটে ঢোকার পর দরজা খোলাই রেখেছিলেন অসীমবাবু। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বলছে, রাত ৮টা ১৩ মিনিট নাগাদ এক যুবক সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে ওই ফ্ল্যাটে ঢোকে। সেই সময় তার হাতে একটি লাল রঙের ব্যাগ ছিল। রাত ১০টা ৩২ মিনিট নাগাদ ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে প্রথমে বাইরের কোলাপসিবল গেটটি আটকে দেয় সে। এরপর একটি কালো ব্যাগ হাতে নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় তাকে। শুক্রবার সকালে অসীমবাবুর বাড়ির লোক তাঁকে ফোনে না পেয়ে ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখেন, মেঝেতে নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তিনি। কে এই সন্দেহভাজন যুবক? বৃদ্ধের সঙ্গে তার সম্পর্কই বা কী ছিল? প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে ফ্ল্যাটের ভিতর বৃদ্ধের সঙ্গে কী করছিল সে? খুনের ঘটনায় এই প্রশ্নগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও অভিযুক্তকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিস।
এদিন সকালে ফ্ল্যাটের মেঝে থেকে পোড়া সিগারেট, দেশলাই, কাবলি ছোলার তরকারির অবশিষ্ট অংশ সংগ্রহ করে ফরেনসিক টিম। নেওয়া হয় বৃদ্ধের জামা কাপড়ও। মৃতের পরিবারের দাবি, অসীমবাবু কখনও সিগারেট খেতেন না। এমনকী বাড়ি থেকে কাবলি ছোলার তরকারি নিয়েও তিনি ওই ফ্ল্যাটে যাননি।
অসীমবাবুর মেয়ে সুনীতি দত্ত বলেন, ‘বাবার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। বাবা থাকাকালীন ওই ফ্ল্যাটে কে আসত, তা আমাদের জানা নেই। বাবার শরীর থেকে সোনার অলংকার খোয়া গিয়েছে। পুলিস সবটা তদন্ত করে দেখুক’। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘ফ্ল্যাটে আসা যুবকের সঙ্গে মৃতের পূর্বপরিচয় ছিল। সে আসবে বলেই সম্ভবত ফ্ল্যাটের দরজা খোলা রেখেছিলেন তিনি। অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। দ্রুত ঘটনার
কিনারা হবে’।