নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাদের পুজোমণ্ডপের পাশে থাকবে না সিপিএম বা অন্য কোনো বামদলের স্টল। রীতিমতো দুর্গাপুজোর ব্যানারে ‘বামবধ’ লিখে সেই বার্তা দিয়েছে পূর্ব কলকাতার ‘কামারডাঙা দুর্গোৎসব কমিটি’। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাদের পুজোমণ্ডপের পাশে থাকবে না সিপিএম বা অন্য কোনো বামদলের স্টল। রীতিমতো দুর্গাপুজোর ব্যানারে ‘বামবধ’ লিখে সেই বার্তা দিয়েছে পূর্ব কলকাতার ‘কামারডাঙা দুর্গোৎসব কমিটি’। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
পটারি রোডের দুর্গামাঠের এই পুজো এবার ১০৭তম বর্ষে পা দিতে চলেছে বলেই দাবি উদ্যোক্তাদের। সেই পুজোয় এবার ‘বামবধের’ ডাক। এই সমিতি এবার বুকস্টল করতে দেবে না বামেদের। একটি ব্যানারও ছাপা হয়েছে এই মর্মে। এবার কামারডাঙা দুর্গোৎসব সমিতির থিম-‘সনাতন হিন্দু রাষ্ট্র’। ১০৭ বছর পড়বে তাদের পুজোয়। তার তোড়জোড় চলছে। থিমের সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে সেখানে মণ্ডপসজ্জায় থাকছে ভারত মাতার ছবি। সঙ্গে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিংবা বন্দেমাতরম গান এমনকি স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়ে ‘গ্রেট কলকাতা কিলিং’এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো গোপাল মুখোপাধ্যায়ের (গোপাল পাঁঠা) মতো নানা চরিত্র ফুটে উঠবে মণ্ডপে।
কিন্তু এসবের পাশাপাশি এই পুজো কমিটির চর্চায় এসেছে বামেদের বুকস্টলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ছাপানো ব্যানার। ‘বামবধ’এর ডাক দেওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যানারে লেখা রয়েছে-‘সিপিআইএম/ ডিওয়াইএফআই/ এসইউসিআই সহ সকল বামপন্থী সংগঠন দ্বারা নির্মিত স্টল বসতে দেওয়া হবে না।’
পুজো উদ্যোক্তা সুরজকুমার সিং বলেন, বামপন্থীদের কোনও স্টল আমরা পুজোতে বসতে দেব না। ওরা ধর্ম বিশ্বাস রাখে না। অন্যান্য পুজো কমিটিকেও আমরা সেই অনুরোধ জানাচ্ছি, তারাও এই পদক্ষেপ নিক। আমাদের লড়াই কোনো ব্যাক্তির বিরুদ্ধে নয়। একটা মতাদর্শের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই। যাঁরা হিন্দুদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। গেরুয়া রংকে আবমাননা করে। সিপিএম তো বলে ওরা সেকুলার, ধর্ম হচ্ছে আফিম। যেহেতু ওরা আমাদের ধর্মের বিরুদ্ধে, তাই ওদের কোনো স্টল আমাদের পুজো-উৎসবে বসতে দেওয়া হবে না।
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, এসব বাজার গরম করার জন্য বলছে। শুভেন্দু অধিকারীকে খুশি করার জন্য বলছে। আমরা যেখানে স্টল করার, সেখানেই করব। এই ব্যাপারে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, মণ্ডপের আশপাশের জায়গাগুলি তো ওদের বাবারা ওদের নামে লিখে দিয়ে যাননি। প্যান্ডেলের ভিতরে কোনো বুকস্টল হয় না। প্যান্ডেলের বাইরের এলাকা-রাস্তাও কোনো পুজো সমিতির নিজের হয় না। মুখ্যমন্ত্রী যদি বলতেন, কোনো বুকস্টলকে জায়গা দেওয়া যাবে না, তাহলে আমরা ওঁনাকে আর পুলিশ প্রশাসনকে আদালতে টেনে নিয়ে যেতাম। কিন্তু উনি নিজের ঘাড়ে বন্দুক না রেখে ওই সমস্ত পুজো কমিটির ঘাড়ে বন্দুক রেখেছেন। বাংলার কোনো পুজো কমিটি মুখ্যমন্ত্রীর এই ছেলেমানুষি কথা শোনেনি। কিন্তু, এমন দু’একটা ছাগলের তৃতীয় সন্তান আছে, যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কথায় নাচছে। এই নোংরা রাজনীতি দুর্ভাগ্যজনক।