নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বরানগর ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে (আইএসআই) নির্বিচারে গাছ কাটার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক, কর্মী ও আধিকারিকরা সরব হয়েছেন। একইভাবে বরানগরের বৃক্ষপ্রেমী মানুষেরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ঘটনার বিহিত চাইছেন। কারা, কেন বিপুল সংখ্যায় গাছ কাটল তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হইচই শুরু হতেই আপাতত গাছ কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রতিষ্ঠানের কেউ এনিয়ে মুখ খুলতে চাননি।
প্রাচীন ও ঐতিহ্যশালী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস জুড়ে বড়ো বড়ো গাছের সারি রয়েছে। বিটি রোড দিয়ে গেলেও চোখে পড়বে। বহু গাছের ডাল বিটি রোডের দিকে ছড়িয়ে রয়েছে। আইএসআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক মাস আগে থেকে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কিছু গাছ কাটার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। বনদপ্তরকেও চিঠি দেওয়া হয়। বনদপ্তরের আধিকারিকরা পরিদর্শন করে বেশ কিছু গাছ শনাক্ত করেন। এই গাছগুলি কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রতিষ্ঠানের পূর্বতন ডিরেক্টরের আমলে। সেইমতো গাছ কাটা শুরু হয়। গাছ কাটা শুরু হতেই তীব্র ক্ষোভ ছড়ায়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপকরা, লিখিত অভিযোগ জানান। তাঁদের দাবি, এস্টেট অফিসার ও অর্থ বিভাগের এক আধিকারিকের নির্দেশে এই গাছ কাটা হচ্ছে। অবিলম্বে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু প্রতিষ্ঠানের অন্দরমহল নয়, বিতর্ক ছড়িয়েছে বরানগর জুড়ে। ইতিমধ্যে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আইএসআইয়ের সামনে গাছ কাটার প্রতিবাদে ব্যানার লাগিয়েছে। এই সংগঠনের নেতা তথা বরানগরের আইএনটিটিইউসি নেতা শঙ্কর রাউত সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটা গাছের ছবি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে আমরা বরানগর জুড়ে গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছ রক্ষার সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছি। কিন্তু আইএসআইয়ের মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বিচারে গাছ কাটা হলে সমাজে কী বার্তা যাবে? অবিলম্বে তদন্ত করে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে। নাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। যদিও আইএসআই কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, বেশ কয়েকটি মৃত ও বিপজ্জনক গাছ ছিল। বনদপ্তরের অনুমতি নিয়ে তেমন ৬৫টি গাছ কাটার কাজ শুরু হয়েছিল। ওই সব গাছ ভেঙে পড়ে কোনও অঘটন ঘটলে দায় তো কর্তৃপক্ষের উপর আসত। যদিও অন্য অংশের দাবি, আজ পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটেনি। গাছ কাটার অজুহাত হিসাবে এইসব যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। আইএসআইয়ের ডিরেক্টর অয়নেন্দ্রনাথ বসু’কে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। নিজস্ব চিত্র