Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বভারতীর শ্রীনিকেতনে পল্লি সংগঠন বিভাগের সাইনবোর্ডে নেই বাংলা, বিতর্ক

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান। সেই বিশ্বভারতীর শ্রীনিকেতনে একটি সাইনবোর্ড ঘিরেই এখন তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্বভারতীর শ্রীনিকেতনে পল্লি সংগঠন বিভাগের সাইনবোর্ডে নেই বাংলা, বিতর্ক
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান। সেই বিশ্বভারতীর শ্রীনিকেতনে একটি সাইনবোর্ড ঘিরেই এখন তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শ্রীনিকেতনে পল্লি সংগঠন বিভাগের অধ্যক্ষের ঘরের সামনে বিভাগের নাম লেখা একটি বোর্ডে নেই বাংলা। লেখা রয়েছে হিন্দি ও ইংরেজিতে। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রশ্ন উঠেছে রবীন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীতেই কি বাংলা ব্রাত্য? এই নিয়ে সমাজমাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দি ও ইংরেজিতে বোর্ড থাকতে পারে। আপত্তি নেই। কিন্তু সেখানে বাংলা থাকবে না কেন? বিশেষ করে সেই জায়গাটি যখন রবীন্দ্রনাথের হাতে তৈরি শ্রীনিকেতন! এই বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও বিশ্বভারতীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাইনবোর্ডে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি তিন ভাষার ব্যবহারও রয়েছে। যদিও এই নিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, এটি গত আট বছর ধরে রয়েছে। তৃণমূল আমলে গর্গের এতদিন চোখে পড়েনি। তবে, বাধ্যতামূলক না হলেও ত্রিভাষিক বোর্ড হওয়া উচিত ছিল। তা করে দেওয়া হবে।  

Advertisement

বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত বোর্ডটি নতুন করে লাগানো হয়নি। কয়েক বছর আগে পল্লি সংগঠন বিভাগের অধ্যক্ষের ঘরের সামনে সেটি বসানো হয়েছিল। ওই বোর্ডের আশপাশে আরও অনেক সাইনবোর্ড রয়েছে। সেখানে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি তিন ভাষাতেই লেখা রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের দাবি।
তবু প্রশ্ন থামছে না। কারণ, ঠিক এই সময়েই বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে রাজ্যজুড়ে নতুন করে জোর দেওয়ার কথা ঘোষণা হয়েছে। সরকারি দপ্তরের চিঠিপত্র, নথি এবং নাগরিকদের দেওয়া উত্তরে বাংলার ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলার পাশাপাশি হিন্দি ব্যবহারের কথাও জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই শান্তিনিকেতনের ওই বোর্ড আরও বেশি করে আলোচনায় এসেছে।
আশ্রমিক ও শিক্ষাবিদদের একাংশের  কথায়, অন্য ভাষার ব্যবহার নিয়ে আপত্তি নেই। হিন্দি ও ইংরেজি অবশ্যই থাকবে। কিন্তু বাংলাকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ বাংলা শুধু যোগাযোগের ভাষা নয়। শান্তিনিকেতনের সঙ্গে এই ভাষার সম্পর্ক ঐতিহাসিক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ