নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুরু থেকেই বিতর্ক। প্রথম বিতর্ক ভাষা নিয়ে। আঞ্চলিক ভাষায় পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। সেই নিয়মের গেরোয় গরিব হরিজন পরিবারের মেধাবী ছাত্রী তামিলনাড়ুর এস অনিতা আত্মহত্যা করলেন। সেকথা আজকের নয়। ৯ বছর আগের। ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বরের। একটি মৃত্যু সারা রাজ্য, এমনকি আওয়াজ তুলল গোটা দেশে। দাবি উঠল, আঞ্চলিক ভাষায় পরীক্ষা চালু করতে হবে নিট-এ। যাঁরা হিন্দিভাষী নন, তাঁরা কি মানুষ নয়? কিন্তু, নিট-এর প্রশ্নফাঁস এবং একের পর এক ছাত্রছাত্রীর আত্মহত্যার প্রসঙ্গ যখন উঠছে, তামিলনাড়ু ভোলেনি অনিতাকে। নিট-এর বিতর্কিত ইতিহাসও ভুলতে পারবে না তাঁকে। দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রবেশিকা পরীক্ষার সঙ্গে সেই যে বিতর্ক জুড়ে গেল, যতদিন গেল, তা বহরে আরও প্রকাণ্ড হতে থাকল। নিজের জীবন বলি দিয়ে অনিতা ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলেন ধাপে ধাপে একেবারে ১২টি ভাষায় পরীক্ষা দেওয়ার অধিকার। কিন্তু নিট এবং পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যা এতেও থামল না।
বিভিন্ন সূত্রের খবর, ২০১৩ থেকে ২০২৬—এই ১৩ বছরের মধ্যে ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে নিট না হয়ে আগেকার এআইপিএমটি হয়েছিল। তখন থেকে এখন পর্যন্ত এই ১১ বছরে প্রায় ১০০ জন পরীক্ষার্থী আত্মহননের রাস্তা বেছে নিয়েছেন। প্রদীপ, অনুকীর্তনা, ঋত্বিক মিশ্র, অনশিকা পাণ্ডে, সানা শেখ—এই তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বিতর্কে এ বছর শুধু মে ও জুন মাসেই আত্মহত্যা করেছেন ২১ জন ছাত্রছাত্রী।
২০১৩ সালে ইউপিএ আমলের শেষ লগ্নে এই ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট)-এর সূচনা। ভাষা নিয়ে দেশজোড়া বিতর্কে তোলপাড় হওয়ার পর ওঠে সিলেবাস বিতর্ক। শুরুর কয়েকটি বছর নিট-এর আয়োজন করত সিবিএসই। তাদের সিলেবাসের সঙ্গে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার বোর্ডের সিলেবাস একেবারেই আলাদা বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর আসে ভুয়ো পরীক্ষার্থী বিতর্ক। তারপর ডোমিসাইল বিতর্ক। কাট অফ বিতর্ক আসে তারপর। প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া বিতর্ক। বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীকে নিট-এ কোয়ালিফাই করিয়ে দেওয়া নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। রয়েছে সংরক্ষণ বিতর্কও। সর্বশেষ এবং কফিনের শেষ পেরেকটি ছিল প্রশ্নফাঁস বিতর্ক।
ডাঃ এ কে মাইতির মতো দীর্ঘদিনের নিট শিক্ষকদের সাফ কথা, ‘সরকার যদি বছরের পর বছর ধরে নিট সামলাতে না পারে, তাহলে রাজ্যগুলিকে নিট ফিরিয়ে দিক। আগের মতো তারাই পরীক্ষা নিক।’