২০ ফুট উঁচু র‌্যাম্প থেকে প্রতিমা নিরঞ্জন ভেঙে যাচ্ছে মূর্তির মাথা-ঘাড়, বিতর্ক
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বুধবার বিজয়া দশমীতে আলিপুরদুয়ার জেলা সদরের কালজানি বিসর্জন ঘাটে প্রশাসনের তরফে তৈরি করে দেওয়া উঁচু র‌্যাম্প থেকে প্রতিমা নিরঞ্জনের ঘটনায় তীব্র বিতর্ক ছড়িয়েছে। নদীর ঘাট থেকে ২০ ফুট উচ্চতার র‌্যাম্প থেকে নিরঞ্জনের সময় প্রতিমার ঘাড়, মাথা ও হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ক্ষোভ তৈরি হয় দর্শনার্থীদের মধ্যে। অনেকেই নিরঞ্জনের সময় প্রতিমার এই অবমাননা মানতে পারেননি। বিতর্ক তৈরি হওয়ায় আসরে নেমে ক্ষোভ সামাল দিতে হয় এলাকার বিধায়ক পরিতোষ দাসকে। শেষ পর্যন্ত সাবেকি প্রথায় শুরু হয় প্রতিমা নিরঞ্জন। 

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন ঘোষ বলেন, প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় এভাবে মা দুর্গার অবমাননা মানা যায় না। শহরের ইটখোলা দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক সুমিত ভট্টাচার্য বলেন, অবৈজ্ঞানিকভাবে তৈরি উঁচু র‌্যাম্প থেকে নিরঞ্জনের সময় প্রতিমার শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ভেঙেই যাবে। এই অবৈজ্ঞানিক কাজ মানা যায় না। 
গৃহবধূ শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী বলেন, কোনো বাড়িতেই মা-বা তাঁদের মেয়েকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বিদায় দেন না। এটা বাঙালির পরম্পরা ও ঐতিহ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বাঙালির সেই পরম্পরা ও ঐতিহ্যে আঘাত করেছে। শহরের সমাজকর্মী রাতুল বিশ্বাস বলেন, কোনো কিছু জানা না থাকলে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে জেনে নিতে অসুবিধা কোথায়? পুজোর উদ্যোক্তাদের কাছ থেকেই তো বিসর্জনের ঘাট কেমন হয় তা জেনে নেওয়া যেত। 
এদিকে, শেষ পর্যন্ত আলিপুরদুয়ার পুরসভা নিয়ন্ত্রিত ওই বিসর্জন ঘাটের র‌্যাম্প নিয়ে এই ক্ষোভ সামাল দিতে রাতেই হস্তক্ষেপ করতে হয় এলাকার বিধায়ক পরিতোষ দাসকে। বিধায়ক বলেন, প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য এভাবে অবৈজ্ঞানিকভাবে র‌্যাম্প তৈরির কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা আর না ঘটে, তা খতিয়ে দেখা হবে। 
প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য প্রশাসন থেকে যখন এই র‌্যাম্প তৈরি করা হয়, তখন কালজানির জল অনেক উপরে ছিল। শুখা মরশুমে নদীর জল অনেক নীচে নেমে যাওয়াতেই এই বিপত্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।