প্রীতেশ বসু, কলকাতা: গত বছর দুর্গাপুজোর আগে বানভাসি হয়েছিল রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ডিভিসির বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজ্যকে কিছু না জানিয়ে ডিভিসির বাঁধ থেকে জল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সূত্রে ওই বন্যাকে ‘ম্যান মেড’ বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। গত বছরের ওই পরিস্থিতির জন্য ঝাড়খণ্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন তেনুঘাট ড্যাম থেকে জল ছাড়াকে দায়ী করা হয়েছিল। তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে চাপানউতোরও তৈরি হয়। এই আবহে আগামী ১০ মে রাঁচিতে প্রথমবার বসতে চলেছে পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদের (ইস্টার্ন জোনাল কাউন্সিল) বৈঠক। দেশের স্বরাস্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁদের প্রতিনিধিদের বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা। ওই বৈঠকে বন্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়েই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তার জন্য ইতিমধ্যে রাজ্যের তরফে প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে, রাজ্যের অনুমতি ছাড়াই বাঁধ থেকে জল ছাড়ার বিরুদ্ধে যেমন রাজ্য সরব হবে, তেমনই তেনুঘাট ড্যামকে দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটির (ডিভিআরআরসি) অধীনে ‘ইউনিফায়েড কন্ট্রোলে’ নিয়ে আসার দীর্ঘদিনের দাবি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হবে বৈঠকে।
প্রস্তাবিত ‘ইউনিফায়েড কন্ট্রোল’-এ বাংলার কী লাভ? নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এর ফলে ঝাড়খণ্ড তাদের একক সিদ্ধান্তে আর তেনুঘাট থেকে জল ছাড়তে পারবে না। প্রয়োজনে সেই সিদ্ধান্ত নেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ঝড়খণ্ড সরকার, সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন এবং ডিভিসির প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ডিভিআরআরসি। অর্থাৎ, ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত পাঞ্চেত বা মাইথন থেকে জল ছাড়ার ক্ষেত্রে যেমন বাংলার সঙ্গে কথা বলতেই হয়, তেনুঘাটের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম লাগু হবে। রাজ্যের এক পদস্থ কর্তার কথায়, ‘এটি আমাদের বহুদিনের দাবি। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। কিন্তু গতবার যেভাবে বন্যায় ভেসেছে কয়েকটি জেলা, তারপর আর পিছন ফিরে তাকানো সম্ভব নয়। বন্যা ঠেকাতে তাই ডিভিসির ভূমিকা থেকে শুরু করে তেনুঘাট সংক্রান্ত সমস্যা— সবটাই গুরুত্ব সহকারে বৈঠকে তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে।’
এছাড়া, ফুলবাড়ি ব্যারেজ ও ম্যাসাঞ্জোরের বিষয়টিও বৈঠকে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই বৈঠকের অ্যাজেন্ডায় থাকা সীমান্ত সুরক্ষা, আন্তঃরাজ্য সড়ক ও জলের পাইপলাইন ইত্যাদির পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণও বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। প্রসঙ্গত, দামোদর, মহানন্দা সহ একাধিক নদীর জল বণ্টন নিয়ে তৎকালীন অবিভক্ত বিহারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের একটি চুক্তি হয় ১৯৭৮ সালে। সেই চুক্তির শর্তগুলি সামনে রেখে রাঁচির বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।