Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬

বিদেশি পর্যটক সেজে ঠিকাদারের কছে লক্ষ টাকার প্রতারণা

ফেসবুকে প্রথমে একজন লন্ডনের পর্যটক পরিচয় দিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তারপর বৈদেশিক মুদ্রা ভারতীয় মুদ্রাতে বদলি করার অজুহাতে নানা প্রলোভন দেখিয়ে গোয়ালিয়রের এক ঠিকাদারকে পতারণা।

বিদেশি পর্যটক সেজে ঠিকাদারের কছে লক্ষ টাকার প্রতারণা
  • ১১ মে, ২০২৬ ০৮:৫২

ভোপাল, ১১ মে: ফেসবুকে প্রথমে একজন লন্ডনের পর্যটক পরিচয় দিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তারপর বৈদেশিক মুদ্রা ভারতীয় মুদ্রাতে বদলি করার অজুহাতে নানা প্রলোভন দেখিয়ে গোয়ালিয়রের এক ঠিকাদারকে পতারণা। প্রায় ১.২৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। 

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোয়ালিয়রের হরিশঙ্করপুরম এলাকার বাসিন্দা ঠিকাদার কমলকান্ত যাদবের সঙ্গে গত ২৪ এপ্রিল ফেসবুকে যোগাযোগ করে এক মহিলা। প্রথমে সে নিজের নাম 'লাকি চার্লস' বলে পরিচয় দেয়। পরে 'ড. প্যাট্রিসিয়া' নামে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথন চালাতে থাকে। ওই মহিলা দাবি করে যে তিনি লন্ডনে থাকেন এবং ভারত ভ্রমণে আসছেন। তাঁর কাছে ৯৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড রয়েছে, যার ভারতীয় মুদ্রামানে মূল্য প্রায় ১.২২ কোটি টাকা। তিনি জানান, এই টাকা যদি কমলাকান্ত ভারতীয় মুদ্রায় বদল করতে সাহায্য করে তাহলে তাঁকে  মোটা অঙ্কের কমিশন ও দামী উপহার দেওয়া হবে। এতেই গলে যান কমলকান্ত। প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করে সে যা বলে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে শুরু করে। ২৭ এপ্রিল, কমলকান্ত যাদবের কাছে এক মহিলা ফোন করে নিজেকে মুম্বই বিমানবন্দরের আধিকারিক বলে পরিচয় দেয়। তিনি দাবি করেন, বিদেশি মুদ্রা ছাড়ানোর জন্য কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিতে হবে। প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে যাদব প্রথমে ৩৮,৫০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি, এরপর আরও নানা প্রক্রিয়াগত খরচের অজুহাতে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত তিনি মোট ১.২৩ লক্ষ টাকা প্রতারকদের হাতে তুলে দেন। পরে অভিযুক্তরা আরও ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। তখনই টনক নড়ে যাদবের। রপরই তিনি সাইবার হেল্পলাইন ১৯৩০ নম্বরে যোগাযোগ করেন এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযোগের ভিত্তিতে ঝাঁসি রোড থানায় অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফআইআর দায়ের করেন কমলকান্ত যাদব। তদন্তকারী অফিসার ইন্সপেক্টর শক্তি সিং জানান, ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে ভারতে আসার কথা বলে এক মহিলা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। পরে নানা অজুহাতে ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে অভিযোগকারীর কাছ থেকে ১.২৩ লক্ষ টাকা প্রতারণা করে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

সম্পর্কিত সংবাদ