Bartaman Logo
২১ জুলাই, ২০২৬

অসুস্থ সোনামের আন্দোলন আজ সংসদ অভিমুখে

দিল্লি পুলিশের বাধা সত্ত্বেও সোনাম ওয়াংচুক সংসদ অভিযানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্দোলনের গুরুত্ব জানুন। বিস্তারিত পড়ুন।

অসুস্থ সোনামের আন্দোলন আজ সংসদ অভিমুখে
  • ২০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: যন্তরমন্তরের অনশন মঞ্চ থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সফদরজং হাসপাতালে কার্যত ‘বন্দি’ তিনি। তবে এতকিছুর পরও মাথা নোয়াতে নারাজ সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। বাস্তবের ‘র‌্যাঞ্চো’র অনশন দিল্লি পুলিশ বা মোদি সরকার ভাঙাতে পারেনি। আর এবার হাসপাতাল থেকেই সংসদ অভিযান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য আম জনতার কাছে সরাসরি আবেদন জানালেন সোনাম। রবিবার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর মাধ্যমে হাতে লেখা একটি চিরকুট পাঠিয়েছেন তিনি। তাতে সোনাম লিখেছেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অন্যায় থেকে মুক্তি পেতে, আমাকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার মতো ভয় থেকে মুক্তি পেতে ২০ জুলাই সংসদে চলুন। এটি ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন। দয়া করে এই কর্মসূচিকে সফল করুন।’ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনেক আগেই ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এসএফআই সহ একাধিক ছাত্র সংগঠনও সেই কর্মসূচিতে যোগ দেবে। গীতাঞ্জলি জানান, যদি রাজনীতিবিদরা সোনামের সঙ্গে দেখা করে সংসদের বাদল অধিবেশনে শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দেন, তাহলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন।

Advertisement

দিল্লি পুলিশ সাফ জানিয়েছে, সংসদ অভিযানের অনুমতি দেওয়া হবে না। তাদের দাবি, যন্তরমন্তরের অনশন কর্মসূচি পুরোটাই বেআইনি। আর সংসদের মতো হাই-সিকিওরিটি জোনে আন্দোলনকারীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত। আন্দোলনকারীরা জোর করলে আটক করা হবে। সরকারের মুখরক্ষায় দিল্লি পুলিশ যে ব্যাপক ধরপাকড় চালাতে পারে, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সিজেপির প্রধান অভিজিত্ দিপকেও। রবিবার তাঁর পোস্ট করা একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান নিয়ে এসেছে পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছে র‌্যাফ।
এদিকে, সোনামকে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার আবেদন জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গীতাঞ্জলি। তাঁর দাবি, সফদরজং হাসপাতালের উপর তিনি বিশ্বাস হারিয়েছেন। যেভাবে পুলিশ সেখানে নজরদারি চালাচ্ছে, তা বেআইনিভাবে আটকে রাখার শামিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোনামের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্যও দিচ্ছে না। কিন্তু এনিয়ে কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণের সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়েছে, চিকিত্সকরা সোনামের উপর নজর রাখছেন। সম্মতি নিয়েই সোনামকে ‘ওরাল মেডিসিন’ দিয়েছেন তাঁরা। তাই জোর করে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, বলা যায় না। সোনামকে হাসপাতালে নিয়ে এসে দিল্লি পুলিশ কোনো ভুল করেনি বলেও মন্তব্য করেছেন বিচারপতি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ