Bartaman Logo
২১ জুলাই, ২০২৬

সর্বদলে কেন সুদীপ-কাকলি প্রতিবাদে ওয়াক আউট বিরোধীদের, লোকসভায় দ্বিতীয় সারিতে অভিষেকের আসন

সুদীপ-কাকলি ওয়াক আউট করলেন সর্বদলীয় বৈঠকে। লোকসভায় আসন পরিবর্তন নিয়ে বিরোধীরা উদ্বিগ্ন। বিস্তারিত পড়ুন।

সর্বদলে কেন সুদীপ-কাকলি প্রতিবাদে ওয়াক আউট বিরোধীদের, লোকসভায় দ্বিতীয় সারিতে অভিষেকের আসন
  • ২০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সরকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে কেন সুদীপ-কাকলি? প্রতিবাদে রবিবার ‘ওয়াক আউট’ করল বিরোধীরা। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা যাদের নতুন দল এনসিপিআই’ বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতিই দেয়নি, সেই দলের নেতা হিসাবে কী করে হাজির বাংলার দুই‌঩নেতানেত্রী? সংসদের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে এদিন বৈঠকের গোড়াতেই সোচ্চার হন মহুয়া মৈত্র। বিষয়টি গণতন্ত্র বিরোধী বলে সওয়াল চড়ান সৌগত রায়। এ ব্যাপারে তৃণমূলের পাশে দাঁড়াল সমগ্র বিরোধীরা। যদিও স্রেফ সর্বদলীয় বৈঠকেই নয়। এদিন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার ডাকা ‘বিজনেস অ্যাডভাইসারি কমিটি’র বৈঠকেও এনসিপিআইয়ের মুখ্য সচেতক হিসেবে যোগ দেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। 

Advertisement

বিরোধীরা যতই প্রতিবাদ করুক, লোকসভার সচিবালয় এই বিদ্রোহী তৃণমূলিদের দাবি মেনে বসার আসন পরিবর্তন করে দিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছে ৩৫৪ নম্বর আসন। আর অভিষেককে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় সারিতে। যা একেবারে সামনের সারিতে। কাকলি ঘোষদস্তিদারকে তৃতীয় সারি থেকে আনা হচ্ছে দ্বিতীয়ে। এতদিন তৃণমূল হিসেবে ওই ২০ জন সাংসদ স্পিকারের আসনের একেবারে মুখোমুখি যেখানে বসতেন, সেখানেই থাকছেন। সামান্য এদিক-ওদিক করা হয়েছে আসন সংখ্যা। তৃণমূলের ৮ জন মাত্র সাংসদ। তাই তাদের লোকসভায় প্রথম সারি থেকে সরানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি করেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
যদিও এখনো কেন তাঁদের এনসিপিআই হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে অস্বস্তি কাটছে না সুদীপ-কাকলিদের। মুখে বলছেন, ‘প্রক্রিয়া চলছে। সময় তো লাগতেই পারে। আমরা এনসিপিআই। তাই তো সরকার বৈঠকে ডেকেছিল।’ লোকসভার স্পিকার এদিন ফের তাঁদের থেকে তিনটি কাগজ চেয়ে পাঠান। সেগুলি হল, ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) যে নির্বাচন কমিশনের নথিভূক্ত, এনসিপিআইয়ের দলীয় সংবিধান এবং বিদ্রোহী ২০ তৃণমূল সাংসদকে যে ওই দল গ্রহণ করেছে, তার প্রস্তাব পাশের কাগজ। এদিন তিনটিই জমা করেছেন কাকলি। তবে বিদ্রোহীরা আরো একটি বিষয়ে চাপে রয়েছেন। সেটি হল, যতক্ষণ না আলাদা দল বলে স্বীকৃতি হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা তৃণমূলই। তাই মমতাপন্থী মূল তৃণমূল যদি সংসদে কোনো বিলে হুইপ জারি করে, কী করবেন বিদ্রোহীরা? হুইপ না মানলে তো খোয়া যেতে পারে সাংসদ পদ। 
এতদিন ছিলেন বিরোধী। এখন সংসদে সরকারের শরিক। তাও আবার এনডিএ’র দ্বিতীয় বৃহত্তম দল এনসিপিআই। পেট্রল, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, টাকার মৃল্য পতন ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠকে সরব হন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদে কী হবে স্ট্র্যাটেজি, তা ঠিক করতে রবিবার বিকালে পুরনো সংসদ ভবনের দোতলায় ৬২ নম্বর ঘরে বৈঠকে বসেন বিদ্রোহী তৃণমূলীরা। যদিও গরহাজির ছিলেন চারজন। দীপক অধিকারী (দেব), জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক এবং ইউসুফ পাঠান। কেন? বিদ্রোহীদের বক্তব্য, বিমান দেরিতে, অন্য কাজে ব্যস্ত ইত্যাদি বিষয়ে তাঁরা যে আসবেন না, আগেই নেতৃত্বকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ