Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি প্রকল্পের পাইপ চুরি চক্রে ধৃত ঠিকাদার

সরকারি প্রকল্পের পাইপ চুরি চক্রে ধৃত ঠিকাদার
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সরকারি পানীয় জল প্রকল্পের পাইপ চুরি চক্রের তদন্তে নেমে এবার ‘সর্ষের মধ্যে ভূতের’ হদিশ পেল বাঁকুড়া পুলিস। কলকাতা থেকে সরকারি প্রকল্পের এক ঠিকাদারকে সম্প্রতি পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। অমিত সাহা নামে ওই ঠিকাদার পাচার চক্রের পান্ডা শেখ ইয়াসিন ও শেখ হাফিজুলের কাছ থেকে অর্ধেক দামে চোরাই পাইপ কিনে নিত। ওই পাইপ ফের বাজারদরের থেকে বেশ কিছুটা কম মূল্যে অমিত অন্যান্য ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করত। বাঁকুড়া ও আশপাশের জেলা থেকে চুরি যাওয়া বহু পাইপ অমিতের হাত ঘুরে অন্যান্য প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। সবমিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার সরকারি পাইপ ওই চক্র হজম করেছে বলে তদন্তকারীরা এখনও পর্যন্ত জানতে পেরেছেন। অমিতকে হাতে পাওয়ায় অন্যান্য গ্যাংয়ের ব্যাপারেও জানা যাবে বলে পুলিস মনে করছে। কারণ ইয়াসিনদের মতো সে অন্যান্য পাচার চক্রের কাছ থেকেও পাইপ কিনত বলে পুলিস আধিকারিকরা অনুমান করছেন। এমনকী চুরির পর সরকারি প্রকল্পের (জনস্বাস্থ্য কারিগরি সহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের পানীয় জল প্রকল্পের) পাইপ যাতে ট্রাকে চাপিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়, তারজন্য ধৃতরা জাল চালানেরও ব্যবস্থা করত। তার পিছনে অমিতেরই হাত ছিল বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।  পুলিস হেফাজতে থাকার কারণে অবশ্য বছর বাষট্টির ওই ঠিকাদারের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Advertisement

বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, ধৃত অমিত কলকাতার লেকটাউনের বাসিন্দা। ইয়াসিন ও হাফিজুলকে জেরা করে আমরা তার নাম জানতে পারি। অমিতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খাতড়া মহকুমা পুলিসের আধিকারিকরা তাকে জেরা করছেন। 
এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, ওই পাইপ পাচার চক্রের প্রায় সব সদস্যকেই আমরা ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করে ফেলেছি। তারা সবমিলিয়ে মোট ৩০ ট্রাক পাইপ চুরি করেছে। যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। ধৃতদের জেরা করে পাইপ চুরির স্থান, পাচারের রুট সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার একাধিক জেলা থেকেও তারা পাইপ চুরি করেছে বলে ধৃতরা জেরায় স্বীকার করেছে। এখন আমরা সেইসব বিষয় খতিয়ে দেখছি। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ইয়াসিন ও হাফিজুলকে পাইপের দাম অমিত নগদেই মেটাত। বাকি টাকা তার এক হিসেবরক্ষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাঠাত। ওই যুবককেও খাতড়া মহকুমা পুলিস ডেকে পাঠিয়ে একদফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। প্রথম দিকে অমিত পুলিসকে ঘোল খাওয়ানোর চেষ্টা করে। তবে হিসেবরক্ষকের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকার পাইপ পাচারের বিষয়টি পুলিস জানতে পারে। তার ভিত্তিতে অমিতকে চেপে ধরতেই সে তদন্তকারীদের কাছে সবকিছু খোলসা করে দেয়। ট্রাকে চোরাই পাইপ পাচারের সময় জাল চালান ব্যবহারের বিষয়টি সে স্বীকার করে নিয়েছে। যদিও ইয়াসিনরাই ওই চালান ছাপাত বলে সে জেরায় দাবি করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ