সংবাদদাতা, রামপুরহাট: জন্ম নিয়ন্ত্রণে রামপুরহাট মেডিক্যালে চালু হল ‘এলএআরসি’ পদ্ধতি। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি বিপরীতমুখী গর্ভনিরোধক। গত মঙ্গলবার থেকে মহিলাদের বিনামূল্যে এই পরিষেবা দেওয়া শুরু হয়েছে। যা অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ রোধ করবে। চিকিৎসকদের মতে, এলএআরসি জন্ম নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলির মধ্যে অন্যতম। যা প্রায় ৯৯ শতাংশ কার্যকর।
মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এলএআরসি দেখতে দেশলাই কাঠির মতো। সেটি মহিলাদের বাহুর ত্বকে স্থাপন করা হয়। এটি তিনবছরের জন্য গর্ভধারণ রোধ করে। তিনবছর পর কোনও মহিলা চাইলে নতুন করে নিতে পারেন। আবার কেউ যদি সন্তান নিতে চান, তাহলে তা বের করে নিতে পারেন। এর আগে প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে চালু হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে গত মঙ্গলবার থেকে সেই পদ্ধতি পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে শুরু হল বীরভূম স্বাস্থ্যজেলার সিউড়ি ও রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার রামপুরহাট মেডিক্যালে। প্রথম দিনেই তিনজন মহিলা এই পরিষেবার সুবিধা নিয়েছেন। এই পদ্ধতির স্টেট ট্রেনার তথা রামপুরহাট মেডিক্যালের গাইনোকোলজিস্ট সুব্রত সামন্ত বলেন, লং অ্যাকিক্টং রিভার্সিবল গর্ভনিরোধক হল বিপরীত জন্মনিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকারী রূপ। বেশি সময় ধরে সুরক্ষা প্রদান করে। এলএআরসির জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয় না।
চিকিৎসকদের মতে, এই জেলায় নাবালিকা বিয়ে বেড়েছে। তারা অল্পবয়সে গর্ভবতী হয়ে পড়ছে। তাতে মা ও শিশু উভয়ে সঙ্কটে পড়ছে। অনেকে সময়ে এখনই বাচ্চা নেবে না বলে অপারেশন করতে যায়। আবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও গর্ভবতী হয়ে পড়ে। তাতে মর্বিডিটি, মর্ট্যালিটি বাড়ে। সেজন্য এই ইমপ্লান্ট চালু করা হয়েছে। শুধু অল্পবয়সি মহিলা নয়, যে কোনও বয়সের মহিলা, যাঁরা দুটো প্রেগন্যান্সির মধ্যে ব্যবধান রাখতে চান তাঁরা এটা ব্যবহার করতে পারবেন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও খুব একটা বেশি নেই। অনেকে এখন গর্ভাবস্থা প্রতিরোধে তিনমাস অন্তর ইনজেকশন নেন। ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করলে সেই ইনজেকশন নিতে হবে না।
চিকিৎসকদের মতে, জন বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে এই ইমপ্ল্যান্ট একটা বড় অস্ত্র। সেই সঙ্গে নাবালিকাদের গর্ভধারণও রোধ করা যাবে সহজেই। তবে কপার টির ক্ষেত্রে যেমন বাইরে কোথাও খুলে নিল, ইমপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে সেটা করতে পারবে না। ইমপ্ল্যান্ট বের করতে চিকিৎসকের কাছে আসতেই হবে।