নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জনতা গাড়ি নিয়ে বেরবে না। ঘরবন্দি হয়ে কাজ করবে। অফিসে যাওয়া বারণ। ঘরবাড়ি নির্মাণ বন্ধ। দূষণ নিয়ন্ত্রণ সার্টিফিকেট না দেখাতে পারলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা। রাজধানী দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বছরের শুরু থেকে সভা সমাবেশে এবং বিধানসভা কিংবা ভোটের প্রচারে দিল্লির বিজেপি সরকার গালভরা প্রচুর প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনার কথা বলেছে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সব দায় জনতার উপর ন্যস্ত করেছে সরকার। আর সেক্ষেত্রে পান থেকে চুণ খসলেই মোটা অঙ্কের জরিমানা।
উৎসবের মরশুম তথা শীতকাল মানেই দিল্লিতে বিগত বছরগুলির অভিজ্ঞতা অনুযায়ী গ্যাসচেম্বার। তীব্র দূষণে জেরবার জনগণ। আম আদমি পার্টির আমলে এই দূষণের প্রবণতা আচমকা বেড়ে যায়। বিজেপি আমলেও কোনওরকম সুরাহা মেলেনি। ২০২৫ সালে বরং দূষণ আরও বেড়ে রেকর্ড হয়েছিল। একিউআই হয়েছিল ১ হাজার। যা বিষাক্ত গ্যাসের ঘরে বসবাসের সমান। আর এই প্রেক্ষিতেই বিজেপি সরকার দিল্লিতে অভিনব বিধিনিষেধ জারি করছে। সোমবার দিল্লি সরকার ঘোষণা করেছে একঝাঁক বিধিনিষেধ। ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই বিধিনিয়ম। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সরকার সব দায় চাপিয়েছে জনতার উপর। এই চার মাসের সময়সীমায় ৫০ শতাংশ কর্মীকে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরগুলি ওয়ার্ক ফ্রম হোম করাতে বাধ্য থাকবে। গাড়ি যথাসম্ভব যেন কেউ বাইরে না বের করে। আর সেটি প্রতিহত করতে পার্কিং ফি করা হয়েছে দ্বিগুণ। সবরকম নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে এই চার মাস। অর্থাৎ ফ্ল্যাট নির্মাণ, বাড়ি নির্মাণ, গৃহসংস্কার সব বন্ধ। প্রশ্ন উঠছে এই বছরেই দিল্লি সরকার বাজেটে ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সামগ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে। জুলাই মাসে আবার ৮৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে শুধুমাত্র দিল্লির বাতাসের বিষ প্রতিহত করতে। এই টাকা ও প্রকল্পগুলি কোথায়? কী কী কাজ হয়েছে? সরকার শুধুই ঘোষণা করবে প্রতিশ্রুতি, আর জনতাকেই সব দুর্ভোগের বোঝা হয়ে আত্মত্যাগ করতে হবে দূষণ নিয়ন্ত্রণে?