সংবাদদাতা, মানবাজার: জমি থাকলেও পথ নেই। এই জটিলতায় বারবার থমকে যাচ্ছে মানবাজার মহকুমা আদালত তৈরির অগ্রগতির কাজ। যদিও হাল ছাড়ছেন না প্রশাসনের কর্তারা। মানবাজার-১ বিডিও দেবাশিস ধর বলেন, আমরা ফের জমির মালিকদের নিয়ে আলোচনায় বসব। আশা করছি শীঘ্রই রাস্তার জন্য জট কেটে যাবে।
২০১৭ সালে মানবাজার মহকুমা ঘোষণা করা হয়। তারপর এতগুলি বছর পর মহকুমা আদালতের জন্য তোড়জোড় শুরু হয়। আদালত তৈরির জন্য মানবাজার শহরের অদূরে গোলকিডি গ্রামের পাশের একটি সরকারি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়। সেখানে চার একরের বেশি জমি রয়েছে। যা মহকুমা আদালত তৈরির জন্য যথেষ্ট। মানবাজার-বান্দোয়ান রাজ্য সড়ক থেকে জায়গাটি কিছুটা দূরে। কিন্তু, সেখানে প্রবেশের কোনও সরকারি খাস জায়গা নেই। তাই সেখানকার রায়তি জমির মালিকদের জমি দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জায়গায় প্রবেশের জন্য ৭৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের রাস্তা প্রয়োজন। যেটি ৩০ ফুট চওড়াও দরকার। কিন্তু, তাতে রায়তি জমি রয়েছে। সেখানকার জমির মালিকদের নিয়ে মাসখানেক আগে আলোচনায় বসেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। কিন্তু, চারজন জমি দিতে রাজি হননি বলে জানা গিয়েছে। এর জন্য অন্যদিকে একটি বিকল্প পথও দেখা হয়। বুধবার দুপুরে সেই পথ পরিদর্শনে আসেন জেলা আদালতের বিচারক সহ জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পুরুলিয়া জেলা আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ সহ অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) রাজেশ রাঠোর, অতিরিক্ত পুলিস সুপার (অপারেশন) যোধারাও অবিনাশ ভীমরাও, মানবাজারের মহকুমা শাসক মানজার হোসেন আনজুম, মানবাজারের এসডিপিও বরুণ বৈদ্য বিকল্প পথ পরিদর্শন করেন। কিন্তু, তাঁরা পরিদর্শনের পর গ্রামের দিকের ওই পথ নাকচ করে দেন। মূল রাস্তা থেকে আদালতে প্রবেশের পথ তৈরির বিষয়টি জানান।
কিন্তু, কয়েকজন সেখানে জমি ছাড়তে সদিচ্ছা দেখাননি। এক আধিকারিক বলেন, জমি দিলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পরিদর্শন দলের এক বিচারক জানান, এলাকায় আদালত তৈরি হলে এখানকার মানুষের নানা উন্নয়ন হবে। আদালতের বিভিন্ন কাজের জন্য এলাকার মানুষজনকে এখনও পুরুলিয়ায় ছুটতে হচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি আদালত তৈরি হবে ততই সুবিধা হবে। এখনকার মানুষজনের।