নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া শহরে পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় একগুচ্ছ রাস্তার উদ্বোধন হয়। কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে ওইসব রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তাগুলি শহরের মোট ১১টি ওয়ার্ডকে সংযুক্ত করবে। ওইসব রাস্তা তৈরি হওয়ার ফলে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে গিয়েছে বলে পুরসভার তরফে দাবি করা হয়েছে।
বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেনমজুমদার বলেন, এদিন শহরের ৪, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১৫, ১৭, ২০, ২১, ২২ ওয়ার্ডে রাস্তা উদ্বোধনের অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে স্থানীয় কাউন্সিলারারও উপস্থিত ছিলেন। এর আগেও আমরা কয়েকটি ওয়ার্ডে পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণ করেছি। আগামী দিনে আরও কিছু রাস্তা হবে। এরফলে শহরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে।
বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এখনও শহরের বেশিরভাগ রাস্তা বেহাল রয়েছে। দু’-চারটি রাস্তার কাজ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া শহরে মোট সাড়ে ৩৯ কিলোমিটার রাস্তা হবে। তারজন্য প্রায় ২০কোটি টাকা খরচ পড়বে। প্রতিটি ওয়ার্ডেই যাতে একাধিক রাস্তার কাজ হয়, তা পুর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে চাইছে। সেইমতো সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ শুরু করেছে। চেয়ারপার্সন বলেন, অন্যান্য প্রকল্পের মতো পথশ্রীর ক্ষেত্রেও আমরা উদ্বোধনের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ফ্লেক্স টাঙিয়ে দিচ্ছি। সেখানে প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ সহ খুঁটিনাটি তথ্য উল্লেখ থাকছে। পুরো বিষয়টিতে যাতে স্বচ্ছতা থাকতে তারজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বাঁকুড়া শহরের বেশকিছু রাস্তা বেহাল হয়ে পড়েছিল। বরাদ্দ কমে যাওয়ায় পুরসভার তরফে ওইসব রাস্তা সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছিল না। পথশ্রী সেক্ষেত্রে মুশকিল আসান হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে শহরবাসীর যাতায়াতের সমস্যা লাঘব করতে পথশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তার হাল ফেরাতে সরকার উদ্যোগী হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে প্রকল্প রূপায়ণের চেষ্টা চলছে বলে পুরদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। আগে পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় মূলত গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা তৈরি হত। বর্তমানে গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি শহরেও প্রকল্প রূপায়িত হচ্ছে। পথশ্রী রাস্তাশ্রী প্রকল্পের আওতায় বহু টাকা রাজ্য সরকার বরাদ্দ করেছে। ওই টাকায় রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। বাঁকুড়া শহরেও যাতে সিংহভাগ ওয়ার্ডের রাস্তা ঝাঁ চকচকে করা যায় তারজন্য পুরসভা উদ্যোগী হয়েছে। ওই প্রকল্পের সাফল্য আগামী দিনে নির্বাচনে তৃণমূলকে ডিভিডেন্ড দেবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। গত কয়েকটি নির্বাচনে তৃণমূল শহরে পিছিয়ে ছিল। এবার উন্নয়নের কাঁধে ভর করে ঘাসফুল শিবির বাঁকুড়া শহরে নির্বাচনী বৈতরণী পার হবে বলে তৃণমূল নেতৃত্ব আশা করছে। -নিজস্ব চিত্র