সংবাদদাতা, মানকর: কাঁকসার শিবপুরে অজয় নদের জলের তোড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে অস্থায়ী সেতুতে। কোথাও কোথাও সেতুর উপর দিয়ে বইছে জল। ফলে পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই সেতুতে যাতায়াত করতে গিয়ে অসুবিধায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে এর স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। পাশেই তৈরি হয়েছে স্থায়ী সেতু। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কাঁকসার রঘুনাথপুরের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৬৫ কোটি টাকা খরচে অজয়ের উপরে নতুন সেতু তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন। প্রায় সাড়ে সাত বছর পর সেই সেতুর কাজই শেষ হয়েছে। বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের দিক থেকে সেতুর সংযোগকারী রাস্তার কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। তবে সে কাজ শেষ হয়ে আগামীতে সেতু চালু হবে বলে আশাবাদী কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, যেটুকু যা বাকি রয়েছে, সেটা খুব দ্রুত করা হচ্ছে। মানুষের অসুবিধার কথা আমরা বুঝতে পারছি।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, নতুন সেতু এখনও চালু হয়নি। ফলে বর্ষাকালে চার মাস বাদে অজয় নদে জলস্তর কমলে হিউম-পাইপ, মোরাম-বোল্ডার দিয়ে তার উপর অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়। কিন্তু বর্ষার শুরুতেই ওই রাস্তা ভেসে যায়। তখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। কিন্তু বর্ষায় অজয় উত্তাল হয়ে ওঠে। সেই ভয়াল রূপ দেখে অনেক সময় নৌকাও বন্ধ রাখা হয়। কাঁকসার সুশান্ত দত্ত বলেন, অজয়ে জল বাড়লে প্রতি বছরই সেতুতে ফাটল ধরে। জলের তলায় চলে যেতে শুরু করে অস্থায়ী সেতু। তারপর ক্রমশ সেতুটি ভাঙতে থাকে। অথচ অজয় নদের উপরের এই সেতু পেরিয়ে পশ্চিম বর্ধমান থেকে যাওয়া যায় বীরভূমের ইলামবাজারে। দৈনন্দিন কাজের জন্য যাঁরা রোজ ওই সেতু পেরিয়ে যাতায়াত করেন, সেতুতে ফাটল ধরায় সমস্যা বেড়েছে তাঁদের। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এই দুর্ভোগ নতুন নয়। বর্ষায় দুই জেলার যোগাযোগ এই রাস্তায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বললেই চলে। তবুও বছরের পর বছর অস্থায়ী সেতু দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এদিন দেখা গেল জীবিকার জন্য মানুষ ঝুঁকি নিয়ে নদী পেরচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামাপদ হাঁড়ি বলেন, ভয় নিয়েই সেতু পেরিয়ে এলাম। অপর বাসিন্দা বিনয় রুইদাস জানান, নতুন সেতুতে ইটের স্তূপ করে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই স্তূপ সরানো হলে সকলের সুবিধা হবে। অনেকে ওই স্তূপের উপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি পারাপার করছেন। বিজেপি নেতা চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নতুন সেতু তৈরি হয়েছে। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে ইটের স্তূপ করে রাখায় যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে। অবিলম্বে ওই রাস্তা খুলে দিতে হবে। • নিজস্ব চিত্র