নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রায় একশো শতাংশ উপভোক্তা বাংলার বাড়ি প্রকল্পে নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি দেখতে জেলাজুড়ে পরিদর্শন শুরু করেন আধিকারিকরা। সেই রিপোর্টেই এই তথ্য উঠে এসেছে। এতেই স্বস্তি পেয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা জেলায় ১ লক্ষ ২ হাজার মানুষ বাংলার বাড়ি পেয়েছেন। খুব তাড়াতাড়ি তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও।
প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন কারণে খুব কম সংখ্যক বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়নি। কেন শুরু হয়নি? সেই বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। বেশিভাগ ক্ষেত্রেই পারিবারিক সমস্যার জন্যই বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, দ্রুততার সঙ্গে বাড়ি তৈরির কাজ হচ্ছে। গোটা বিষয়টির উপর নজর রাখছেন আধিকারিকরা। জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়েও বাড়ি তৈরি কাজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। সকলের চেষ্টায় এই প্রকল্পে সাফল্য আসছে। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ বলেন, বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত গতিতে বাড়ি তৈরির কাজ হচ্ছে।প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনার প্রকল্পের টাকা আটকে দিয়েছে। তাই সমস্যায় পড়েছিল বহু পরিবার। তবে, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য সকলের জন্য স্থায়ী বাসস্থান তৈরি করা। তাই রাজ্য সরকার দ্রুত গৃহহীনদের সমস্যার সমাধান করতে চাইছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। এমনকী, সম্পূর্ণ কাজটি যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হয় সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকৃত গরিব মানুষই যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পায়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যেজুড়ে ১২ লক্ষ মানুষ বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এরমধ্যে শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১ লক্ষ ২ হাজারের বেশি বাড়ি তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ২০২১-’২২ সালে তৈরি হওয়া উপভোক্তাদের লিস্টের উপর জেলায় ৩ লক্ষের বেশি বাড়িতে সার্ভে করার কাজ শুরু করে প্রশাসন। সার্ভে করার কাজ করেছিল ১৭৫৬টি দল। এরপর ১ লক্ষ ২ হাজার বাড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই প্রকল্পে ৬০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৫০০টি পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।
কেশপুর এলাকার বাসিন্দা চঞ্চল পাল বলেন, বন্যায় ক্ষতি হয়েছে এমন অনেক পরিবার বাড়ি পেয়েছে। এছাড়া এখনও অনেক পরিবার আছে যাদের প্রয়োজন থাকলেও বাড়ি পায়নি। তবে প্রশাসনের তরফে তাঁদের বাড়ি দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।