সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আজও ছাড়িগঙ্গার ধারে খোলা আকাশের নীচে দেহ সৎকার করতে হয় নবদ্বীপের ইদ্রাকপুর গ্রামের বাসিন্দাদের। অথচ বেশ কয়েক বছর আগে গ্রামবাসীদের দাবি মেনে ‘বৈতরণি’ নাম দিয়ে শ্মশান তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে সেটি। ভবনটি এখন জরাজীর্ণ। গ্রামবাসীদের মধ্যে যাঁদের আর্থিক অবস্থা ভালো, তাঁরা ৫-৬ কিমি উজিয়ে দেহ নিয়ে আসেন নবদ্বীপ শ্মশানঘাটে। আর যাঁদের সেই সামর্থ্য নেই, তাঁদের ভরসা ছাড়িগঙ্গার চর। আগামী বছর বিধানসভা ভোট। তার আগে বৈতরণি শ্মশানঘাট সম্পূর্ণ করার জোরালো দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে নবদ্বীপের বিধায়ক তহবিলের টাকায় ‘বৈতরণি’ শ্মশানঘাট তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। আচমকা সেই কাজ থমকে যায়। নির্মীয়মাণ কাঠামোটির চারিদিক জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। কিছু কিছু অংশ ভেঙেও পড়ছে। চরম অবহেলায় পড়ে আছে শ্মশানঘাট। অর্থনৈতিক ভাবে বেশ দুর্বল ইদ্রাকপুর গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ। তাঁদের নবদ্বীপ মহাশ্মশানে প্রিয়জনের দেহ নিয়ে আসার মতো টাকা নেই। অগত্যা সেই প্রাচীন আমলের প্রথা মেনে ছাড়িগঙ্গার চরে দেহ দাহ করেন। গ্রামের খুব কম সংখ্যক মানুষই নবদ্বীপ মহাশ্মশানে আসতে পারেন। মায়াপুর-বামুনপুকুর দু’ নম্বর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা তথা নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহার তহবিলের ১০ লক্ষ টাকায় বৈতরণি ঘাটটি তৈরি হয়েছিল। পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে জায়গাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে কাজটা অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে। বিষয়টি বার বার জেলা পরিষদকে জানানো হয়েছিল। ওরাই টেন্ডার করে পিডব্লুডিকে দিয়ে কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু শেষ হয়নি। ফের তদবির করব। আমরা চাই অবিলম্বে এই বৈতরণি ঘাটটি চালু হোক। নবদ্বীপ ব্লকের ফকিরডাঙা-ঘোলাপাড়া পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়ার বৈতরণি ঘাট। সেটিও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। নদীয়া জেলা পরিষদের সদস্যা আরজুবানু খাতুন বলেন, বিধায়ক তহবিলের টাকায় এই বৈতরণি ঘাটটির কাজ শুরু হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এটা যাতে দ্রুত চালু হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেব। মায়াপুর-বামুনপুকুর দু’ নম্বর পঞ্চায়েতের অধীনে ইদ্রাকপুর গ্রাম। এই গ্রামে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। অধিকাংশই কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। বেশ কয়েক বছর আগেও এই গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে ভরসা ছিল একমাত্র নৌকো। তবে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ছাড়িগঙ্গার উপরে তৈরি হয়েছিল একটি কাঁচা রাস্তা।
২০২৩ -২৪ অর্থবর্ষে এই রাস্তাটির ব্রিজ ও অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি হয়। তাতে দেহ নবদ্বীপ শ্মশানে নিয়ে আসার কাজ খানিকটা সুবিধাজনক হয়েছে। নবদ্বীপ শহরের পাশেই বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো এতদিন বেঁচে ছিল ইদ্রাকপুর। এখন যোগাযোগ খানিক উন্নত হলেও দরিদ্র মানুষের দেহ সৎকারে ভরসা সেই ছাড়িগঙ্গার চর।