Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলাদেশকে ‘লঞ্চিং প্যাড’ বানিয়ে ভারতে জাল নোট ছড়ানোর ষড়যন্ত্র, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর নাস্তানাবুদ পাকিস্তান

পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশে থাকা তাদের এজেন্টদের ব্যবহার করে মালদহে জাল নোট পাঠাচ্ছে। এই জেলায় একাধিক স্ট্যাক ইয়ার্ড গড়ে তুলে গোটা দেশে নকল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার ছক কষেছে তারা।

বাংলাদেশকে ‘লঞ্চিং প্যাড’ বানিয়ে ভারতে জাল নোট ছড়ানোর ষড়যন্ত্র, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর নাস্তানাবুদ পাকিস্তান
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও মালদহ: পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশে থাকা তাদের এজেন্টদের ব্যবহার করে মালদহে জাল নোট পাঠাচ্ছে। এই জেলায় একাধিক স্ট্যাক ইয়ার্ড গড়ে তুলে গোটা দেশে নকল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার ছক কষেছে তারা। ঝিমিয়ে পড়া জাল নোটের কারবার আবার ধীরে ধীরে চাঙ্গা হতে শুরু করেছে এখানে। গোয়েন্দাদের কাছে এই রি পোর্ট আসার পর রীতিমতো উদ্বিগ্ন তাঁরা। পাকিস্তানে ভারতীয় নোট ছাপার সঙ্গেই বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া নকল টাকার কারখানা আবার খুলতে শুরু করেছে বলে খবর। জাল নোটের কারবারে আইএসআই বাংলাদেশে সক্রিয় বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে কাজে নামিয়েছে বলে জেনেছেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। ‘অপারেশন সিন্দুরের’ বদলায় জাল নোট ছড়িয়ে, ভারতীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করার ছক যে পাকিস্তান কষেছে, সে বিষয়ে বিশদ তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এহেন ‘প্রক্সি ওয়ার’ চালু রাখতে এখন ‘নয়া দোস্ত’ বাংলাদেশকে ‘লঞ্চিং প্যাড’ হিসেবে ব্যবহার করছে ইসলামাবাদ।  

Advertisement

মঙ্গলবার মালদহের বাংলাদেশ সীমান্তের মেহেদিপুর থেকে ২১ লক্ষ টাকার জাল ভারতীয় নোট সহ দুজন গ্রেপ্তার হয় বেঙ্গল এসটিএফের হাতে। উদ্ধার  হওয়া জাল নোটগুলি বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থেকে আনা হয়েছিল মালদহে। এখান থেকে সেগুলি দিল্লিতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। গোয়েন্দারা প্রাথমিকভাবে জেনেছেন, অপারেশেন সিঁদুরের পর পাক আইএসআই আবার  ভারতে জাল নোট পাঠাতে শুরু করেছে। বেশ কয়েকবছর বন্ধ থাকার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন টাঁকশালে আবার ভারতীয় ৫০০, ২০০ ও ১০০ টাকার নোট ছাপা শুরু হয়েছে। তবে এবার নেপাল রুট নয়, এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বাংলাদেশকে। মাস খানেক আগে এনআইএ জাল নোট সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের পর চার্জশিটে জানিয়েছে,  পাকিস্তানে বসে  ভারতীয় নোট ছাপা হচ্ছে। তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। মঙ্গলবার  উদ্ধার হওয়া জাল নোটগুলি যে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসেছিল, এই বিষয়ে  অনেকটাই নিশ্চিত অফিসাররা। উদ্ধার হওয়া নোটের গুণমান ভালো হওয়ায়, গোয়েন্দাদের অনুমান, পাক কারেন্সি নোট প্রিন্টিং প্রেসেই এগুলি ছাপা হয়েছে। 
বাংলাদেশে হাসিনা সরকার পতনের পর আইএসআই যথেষ্ট সক্রিয় সেখানে। এই কাজে  তারা বাংলাদেশে থাকা আইএসআই চরদের কাজে লাগানোর পাশাপাশি আইএস (বাংলাভাষী ইউনিট), লস্কর ও জয়েশের সদস্যদের কাজে লাগাচ্ছে। পাকিস্তান থেকে এই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সদস্যরা জাল নোট বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। একইসঙ্গে চাঁপাই নবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, রংপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় ভারতীয় জাল নোট ছাপানোর কারখানাগুলিকে চালু করেছে তারা। এই নোট ভারতে ঢোকানোর জন্য মালদহকে বাছা হয়েছে। প্রথম থেকেই এই জেলায় জাল নোটের কারবারিরা সক্রিয়। পুরনো কারবারিদের সক্রিয় করে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে জাল নোট গোটা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এই বিষয়ে মালদহের জেলাশাসক নীতিন সিহানিয়া বলেন, পুলিসের সঙ্গে লাগাতার আমরা এই বিষয়ে বৈঠক করার পরেই সীমান্তবর্তী এলাকাতে পাচারকারীদের উপর বাড়তি নজরদারি রেখেছি।  কারবার রুখতে পুলিস প্রশাসন মিলিত হয়ে কাজ করছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ