নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: বামেদের সঙ্গে কোনো জোট নয়! আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার ২৯৪টি আসনে একা লড়াই করবে কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার হাইকমান্ডের সঙ্গে বৈঠকের পর একথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। দীর্ঘ ২০ বছর বাদে শুভঙ্কর সরকারের জমানায় বাংলায় ‘একলা চলো’ নীতি কংগ্রেসের। যদিও কংগ্রেসের যা সাংগঠনিক অবস্থা, তাতে সব আসনে প্রার্থী দেওয়া সম্ভব কি না তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। এই পরিস্থিতিতে বামেরা কী করবে? এদিনই ছিল বামফ্রন্টের বৈঠক। সেখানে শরিকদলগুলি সমস্বরে বাম ঐক্যের পক্ষে সরব হল।
এদিন দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ নেতৃত্বকে বৈঠকে ডাকেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, কে সি বেণুগোপাল, গুলাম মির, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, মৌসম বেনজির নুর, সাংসদ ঈশা খান, অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় সহ ন’জন। বৈঠক সেরে বেরিয়ে প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘আমরা একলাই লড়ব। সেই লড়াইয়ে তৃণমূল এবং বামেদের বিরুদ্ধে টক্কর দিতে অধীরদা অবশ্যই একজন উল্লেখযোগ্য নেতা।’ এরপরই অধীররঞ্জন চৌধুরী বিধানসভায় প্রার্থী হতে পারেন বলে জল্পনা তুঙ্গে। মোদিবিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম বড়ো শরিক কংগ্রেস। বাংলায় তাদের একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কংগ্রেস আলাদা দল। ওরা কী করবে, সেটা ওদের ব্যাপার। ওদের দলীয় সিদ্ধান্তে আমি কেন মন্তব্য করব। আমি আমার দলের কথা বলতে পারি। বাংলার মানুষ তৃণমূলের পাশে আছেন এবং থাকবেন।’ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর অবশ্য সাফ কথা, ‘বুঝতে পারছিলাম, কংগ্রেস একলা লড়তে চাইছে। কংগ্রেসের দোনামোনা মনোভাব নিয়ে কখনও বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না।’
এই পরিস্থিতিতে বামফ্রন্টের বৈঠকে আসন সমঝোতা নিয়ে প্রাথমিক ভাবে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। এরপর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। তবে আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে সব কিছু চূড়ান্ত হবে বলেই খবর। ফের ১৮ তারিখ বৈঠকে বসবে বামফ্রন্ট। এপ্রসঙ্গে সিপিআই নেতা গৌতম রায় বলেন, ‘আসন সমঝোতা করার জন্য দু’টি বিষয়, তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে সমান মানসিকতা ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি হতে হবে।’ তবে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা নরেন চট্টোপাধ্যায় এদিন বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে খবর। পরে সেকথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলের সঙ্গে জোট মানুষ ভালোভাবে নেয় না। এটা পরিস্কার বলেছি। এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে আমরা বেরিয়ে এসেছি।’ যদিও অন্য শরিক নেতাদের দাবি, নরেনবাবু পরে আবার আলিমুদ্দিনে এসেছিলেন। আরএসপি নেতা তপন হোড় বলেন, ‘আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা খানিক এগোল। তবে হুমায়ুন কবীরের প্রসঙ্গে আমরা সাফ জানিয়েছি, এটা ঠিক হয়নি!’