নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভুট্টা, লাল জোয়ার, কাপাস তুলো, সয়াবিন। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে নরেন্দ্র মোদি মূলত এই চার ফসল ফলানো কৃষকের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছেন। এমনকি নিজের রাজ্য গুজরাতের কৃষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দয়ামায়া নেই। তাহলে কীসের জন্য এই চুক্তি? কার স্বার্থে? বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। বলছেন, এটি মজবুত চুক্তি। আদতে সত্যিটা কী? সরকার কি ‘মজবুত’, নাকি আসলে ‘মজবুর’? সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস নেতৃত্ব।
ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞপ্তি সামনে রেখে কংগ্রেস সাংসদ রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, ভারত সরকার তো কিছুই স্পষ্ট করছে না। বাণিজ্যমন্ত্রী পীষূয গোয়েল থেকে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর, এমনকি প্রধানমন্ত্রী মোদিও বিভ্রান্ত করছেন। ‘শূন্য’ শুল্কে আমেরিকার কাছে ভারতের বাজার খুলে দেওয়া হচ্ছে। যার জেরে কৃষকরা প্রবল বিপদে পড়বে। তাছাড়া আমেরিকার সবই ফসলই জেনেটিক্যালি মডিফায়েড। আমাদের বিশুদ্ধ বীজে ফলানো ফসলে স্বাস্থ্যের উপর কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু আমেরিকার ফসল কি সুরক্ষিত? প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এক একটি ফসলের হিসাব তুলে ধরে সুরজেওয়ালা বলেন, ভারত ভুট্টা উৎপাদন করে ৪৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন। আমেরিকা ৪২৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন। আমেরিকার ভুট্টা আমদানি করলে ভারতের চাষিরা কী করবে? গুজরাত, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে হয় লাল জোয়ার। উৎপাদন হয় ৫২ লক্ষ মেট্রিক টন। আমেরিকা উৎপাদন করে ৮৭ লক্ষ মেট্রিক টন। একইভাবে গুজরাত, বিহার, রাজস্থান, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে ১৫.৩ মিলিয়ন টন সয়াবিন হয়। আমেরিকায় হয় ১২০ মিলিয়ন টন।
কাপাস তুলো ভারতে হয় গুজরাত, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক, পাঞ্জাবের মতো রাজ্যে। ভারতের থেকেই কেনে বাংলাদেশ। অথচ সেই বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকা জিরো ডিউটিতে কাপাস কেনার চুক্তি করেছে। অথচ ভারতের সঙ্গে ভিন্ন। তাই মোদি সরকারকে এ ব্যাপারে জবাব দিতেই হবে বলে দাবি করেন তিনি। এক প্রশ্নের উত্তরে সুরজেওয়ালা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো বলেছেন, এই চুক্তি দেশের ভালোর স্বার্থে। রাহুল গান্ধী বিভ্রান্ত করছেন। আমি পালটা চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। কোথায় মুখোমুখি হতে হবে, বলুক বিজেপি। বুঝিয়ে দেব, কৃষকের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে চুক্তি করছেন মোদিজি। তাই কৃষকদের নিয়ে আমাদের প্রতিবাদ চলবে।
এদিকে, আগামী সপ্তাহেই আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করতে ভারতের প্রতিনিধিদল আমেরিকায় যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল।