আইডিবিআই বিক্রির চুক্তি ঘিরে ‘স্বার্থ সংঘাতে’র দাবি কংগ্রেসের, পুনর্বিবেচনার দাবি কর্মী সংগঠনের
  • ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: আইডিবিআই ব্যাংকের বিলগ্নিকরণ ইস্যুতে একদিন আগেই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের তুমুল বাগযুদ্ধ হয়েছে। রাজনৈতিক বিতণ্ডার সেই আবহেই চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। শনিবার কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ আইডিবিআই-এর অংশীদারিত্ব বিক্রি নিয়ে ‘স্বার্থের সংঘাতে’র অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, মোদি সরকারের যেকোনো বড়ো চুক্তি নিয়ে কেন প্রতিবারই এধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়? এদিকে, কানাডার সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্সকে শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে আইডিবিআই ব্যাংক এমপ্লয়িজ’ ফোরাম। এবিষয়ে সংসদীয় পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছে তারা।

Advertisement

এদিন কংগ্রেস নেতা রমেশের দাবি, ‘বিজনেস ওয়ার্ল্ড’-এর তদন্তমূলক প্রতিবেদনে মোদি সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতেই রমেশ বলেছেন, ‘এলআইসির ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর গুরুমূর্তি মহালিঙ্গম সাত মাস একইসঙ্গে এলআইসি ও টমাস কুক ইন্ডিয়ার বোর্ডে কাজ করেছেন। টমাস কুক ইন্ডিয়ার নিয়ন্ত্রক হল ফেয়ারফ্যাক্স। মহালিঙ্গম দুই সংস্থার বোর্ডে একযোগে কাজ করার সময়ই এলআইসি তাদের আইডিবিআই ব্যাংকের ৩০.২৪ শতাংশ শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করে। আর সম্ভাব্য ক্রেতা বা বিডারদের মধ্যে ছিল ফেয়ারফ্যাক্স। এলআইসির ইনভেস্টমেন্ট কমিটিরও সদস্য ছিলেন মহালিঙ্গম। সম্ভাব্য ‘স্বার্থের সংঘাতে’র স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে এ থেকে। সম্ভাব্য এই ‘স্বার্থের সংঘাত’ নিয়ে কি তদন্ত হবে? রমেশের আরও প্রশ্ন, এধরনের বড়ো সরকারি চুক্তিগুলি নিয়ে সিদ্ধান্ত কে নিচ্ছে? কার স্বার্থ সুরক্ষিত করা হচ্ছে? নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা কি আদৌ অক্ষুণ্ণ আছে?’ মোদি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন কর্মচারীরাও। আইডিবিআই ব্যাংক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৌরভ কুমার বলেছেন, ‘বিশেষ করে একটি বিদেশি সংস্থার কাছে আমাদের ব্যাংককে বিক্রি করে দেওয়ার কোনো কারণই নেই।’ আইডিবিআই ব্যাংকের অফিসার ও কর্মচারীদের ইউনাইটেড ফোরাম বিক্রির এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত রেখে সংসদের অধীনে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।