Bartaman Logo
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মমতা সমর্থন করতেই উধাও কং প্রার্থী, দিনভর নাটক, শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর সরলেন নন্দীগ্রামের কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী

শুক্রবারের নাটকীয় ঘটনাক্রম। দুপুরে তৃণমূলের দুই শিবিরের নতুন নাম-প্রতীক বণ্টন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের সূত্র ধরেই নন্দীগ্রামে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসে’র প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে’র প্রার্থীপদ প্রত্যাহার।

মমতা সমর্থন করতেই উধাও কং প্রার্থী, দিনভর নাটক, শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর সরলেন নন্দীগ্রামের কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবারের নাটকীয় ঘটনাক্রম। দুপুরে তৃণমূলের দুই শিবিরের নতুন নাম-প্রতীক বণ্টন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের সূত্র ধরেই নন্দীগ্রামে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসে’র প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে’র প্রার্থীপদ প্রত্যাহার। ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলনে পালাবদলের সরকারকে তোপ এবং নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা। এবং তারপরই ‘উধাও’ ওই নন্দীগ্রামেরই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাই ‘নিয়মমাফিক’ উপনির্বাচনও জাতীয় রাজনীতিতে এদিন চর্চার শিরোনামে।

Advertisement

এদিনই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের নাম হচ্ছে ‘মমতা এআইটিসি’। প্রতীক, বল পায়ে ফুটবল খেলোয়াড়। আর ঋতব্রত শিবিরের নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’। তাদের প্রতীক খাম। এরপরই সামনে আসে একটি ছবি। তাতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে মমতার প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। তার কিছুক্ষণ পরই জানা যায়, হলদিয়া মহকুমা শাসকের অফিসে গিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিকালে সাংবাদিক বৈঠক করে ক্ষুব্ধ মমতা জানান, ‘নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে এই উপনির্বাচনে আমাদের পক্ষ থেকে সমর্থন। আর রেজিনগরে আমরা কি করব, সে বিষয়টি পরে জানাব। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা একসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।’ নন্দীগ্রাম থেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে ‘হাত’ ধরে যখন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্য মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র রাজনৈতিক জমি শক্ত করছেন মমতা, তখনই ঘটে গেল ‘অপ্রত্যাশিত’ ঘটনা। বিকাল ৪টেয় সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মমতা। আর সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ জানা গেল, খোঁজ নেই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের। ওই বিধানসভা এলাকা থেকেই তিনি ‘উধাও’। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, প্রচার শেষে চণ্ডীপুরের একটি হোটেল এসেছিলেন আমাদের প্রার্থী। সেখান থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। চণ্ডীপুর ও নন্দীগ্রাম থানা বলতে পারছে না আমাদের প্রার্থী কোথায়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে? নাকি অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে? রাত পর্যন্ত খোঁজ নেই। প্রার্থীকে ভয় দেখিয়ে কিছু লিখিয়ে নেওয়ার কৌশল নেই তো?’ মমতাও বলেছেন, ‘আমি কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করলাম। তারপরই উধাও? এটাই বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতি।’ রাহুল গান্ধীও বলেছেন, ‘সবটা রাজনৈতিক প্রতিশোধ। গণতন্ত্রের হত্যা।’
ফলে বাংলায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। গণতন্ত্রের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জাতীয় স্তরের বিজেপি বিরোধী নেতানেত্রীরাও। মমতাকে ফোন করে পাশে থাকা এবং সমর্থনের আশ্বাস দেন রাহুল গান্ধীও। বলেছেন, এই লড়াই একা মমতার নয়। অর্থাৎ, রাজনীতির মঞ্চে ইঙ্গিত স্পষ্ট, বিরোধীরা এককাট্টা হচ্ছে। তাই রেজিনগর কেন্দ্র নিয়েও ভাবছেন মমতা। ওই কেন্দ্রে মমতার প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘মনোনয়ন প্রত্যাহার করা উচিত কি না, কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছি। নেত্রীও এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন।’ একদিকে জোট, অন্যদিকে নাম-প্রতীকের জন্য লড়াই। কারণ, প্রতীক ফিরে পেতে রাতেই কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে কিন্তু মামলা দায়ের করে দিয়েছেন মমতা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ