Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

অভিনন্দন টিম ইন্ডিয়াকে

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে সবকিছু যেন ভারতের জন্যই সাজানো ছিল। নিউজিল্যান্ড যেন উপলক্ষ মাত্র।

অভিনন্দন টিম ইন্ডিয়াকে
  • ১১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে সবকিছু যেন ভারতের জন্যই সাজানো ছিল। নিউজিল্যান্ড যেন উপলক্ষ মাত্র। তবু অদৃষ্ট হয়তো চাইল, নিউজিল্যান্ড যেহেতু খেলছেই, বিষয়টাকে আরেকটু বাস্তব রূপ দেওয়া যাক। টসটা তারাই জিতুক, বাকি সবই তো ভারতেরই। হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে কিউয়ি-বধ রোহিতদের। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ‘নীল সমুদ্রে’ সব আতশবাজি ফুটেছে ভারতের বিজয় উদ্‌যাপনে। ২০১৩ সালের পর ফের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়। সব মিলিয়ে তৃতীয়। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর টানা দ্বিতীয় আইসিসি শিরোপা। তা-ও সেই নিউজিল্যান্ডকেই হারিয়ে, আইসিসির কোনও আসরের ফাইনালে যাদের সঙ্গে আগে কখনও জেতেনি ভারত। টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডে-তেও সেরা, মধুর প্রতিশোধ নিয়ে চ্যাম্পিয়নদের চ্যাম্পিয়ন ভারত। 

Advertisement

অথচ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল বাছা নিয়েও কম প্রশ্ন ওঠেনি। কেন সিরাজের বদলে হর্ষিত রানা? কেন শেষ মুহূর্তে দলে ঢুকলেন বরুণ চক্রবর্তী? কেন ব্যাটিং অর্ডারে পিছনে পাঠানো হচ্ছে কেএল রাহুলকে? রাহুলকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না ভারতীয় টিমের পক্ষে। কারণ, যাঁকে বসিয়ে গোটা টুর্নামেন্টজুড়ে খেলিয়ে যাওয়া হল রাহুলকে, তাঁর নাম ঋষভ পন্থ। টুর্নামেন্ট চলাকালীন অনেক তাবড় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞই বলেছিলেন যে, পন্থকে বসানো ঠিক হচ্ছে না। কারণ, তিনি গেমচেঞ্জার। কিন্তু রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় টিম রাহুলের উপর আস্থা হারায়নি। বরং পারিপার্শ্বিকের কথায় কান না দিয়ে তাঁকেই কিপার-ব্যাটার হিসেবে খেলিয়ে যাওয়া হয়েছে। যে আস্থার প্রতিদান দিয়ে গিয়েছেন রাহুল নিজেই। ২০২৩ সালের সেই বিশ্বকাপ ফাইনালে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা সত্ত্বেও দেশবাসীর কাছে খলনায়ক হয়ে গিয়েছিলেন রাহুল। কারণ, মন্থরগতিতে ১০৭ বলে ৬৬ রান করেছিলেন। আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর রোহিত শর্মার পরে তিনি ভারত সমর্থকদের কাছে প্রাণের নায়ক। যাঁর ৩৩ বলে অপরাজিত ৩৪ নিয়ে চতুর্দিকে ধন্য ধন্য চলছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনাল যেন রাহুলের কাছে যেন শাপমুক্তি। স্পিন সহায়ক পিচে ভেলকি দেখিয়েছেন বরুণ চক্রবর্তীও। মাত্র ৩ ম্যাচ খেলেই তাঁর উইকেট সংখ্যা ১০। ফাইনালেও কিউয়ি ব্যাটাররা বুঝে উঠতে পারলেন না কীভাবে বরুণকে সামলাবেন। আর প্রায় প্রতি ম্যাচেই শেষের দিকে ভরসা দিলেন কেএল রাহুল। একটা টুর্নামেন্টেই সমালোচনার পাশা বদলে দিয়েছে রোহিত-কোহলিরাই। অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন মেন ইন ব্লু। এভাবেই জবাব দিতে হয়। এভাবেই মাঠে আগুন ঝরাতে হয়। আর নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাতে হয়। 
অথচ, মাস কয়েক আগেও ছবিটা এরকম ছিল না। অস্ট্রেলিয়া থেকে টেস্ট সিরিজ হারার পর সমালোচনায় ছিন্নভিন্ন হয়েছিলেন রোহিত-বিরাটরা। আঙুল উঠেছিল কোচ গৌতম গম্ভীরের দিকে। আর এদিন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে যেন সমস্ত নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করে দিলেন তিনজনেই। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর কোচের পদ থেকে সরে গিয়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন রোহিত ও বিরাটও। কোচের পদে গৌতম গম্ভীর আসার পর থেকেই প্রত্যাশা তুঙ্গে ছিল। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে পর্যন্ত সেই প্রত্যাশার ধারেকাছেও ছিলেন না গম্ভীর। শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডে সিরিজে হার, ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে টেস্ট সিরিজে একই অবস্থা। তারপর বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতে গিয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্স। প্রশ্ন উঠেছিল দুই সিনিয়র ক্রিকেটারকে নিয়েও। রোহিত-বিরাটদের অবসর নেওয়া উচিত বলে কত আলোচনা-সমালোচনা। কিন্তু দু’জনেই দেখিয়ে দিলেন, কেন তাঁরা বড়মাপের প্লেয়ার। বিরাট কোহলি শুরু করলেন পাকিস্তানকে খতম করার মধ্যে দিয়ে। হাঁকালেন সেঞ্চুরি। তারপর সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৮৪ রান। তাঁর কাঁধে ভর দিয়েই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠেছিল ভারত। ফাইনালে অবশ্য রান পেলেন না। কিন্তু সেখানে নিজের জাত চেনালেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। দেখিয়ে দিলেন অধিনায়কের কাজ কী? একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন। ফাইনালে করলেন ৭৬ রান। বিশেষ করে পিচ যেখানে স্লো হচ্ছে, সেখানে আসলে এটাও সেঞ্চুরির থেকে কম কিছু নয়। টুর্নামেন্টের মাঝপথেই অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে ‘মোটা, খারাপ অধিনায়ক’ বলে বিতর্ক উস্কে দিয়েছিলেন যে কংগ্রেস মুখপাত্র, টিম ইন্ডিয়ার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর সেই শামা মহম্মদই ভারত অধিনায়কের ভূয়সী প্রশংসা করলেন। রোহিতকে ‘স্যালুট’ জানিয়ে বললেন, যেভাবে রোহিত দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেটা প্রশংসার যোগ্য। আর ম্যাচের পর ভারত অধিনায়ক নিজেই স্পষ্ট বলে দিলেন, ‘অবসর নিচ্ছেন না তিনি।’ যেভাবে খেলছেন, সেভাবে খেলা চালিয়ে যেতে চান। কে থামাবে তাঁকে? ১২ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় যে তাঁরই হাত ধরে। চ্যাম্পিয়নদের ঘিরে দেশজুড়ে অকাল দিওয়ালির মেজাজ দেখল গোটা ভারত। খুঁজে পাওয়া যায়নি শুধু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক দেশ পাকিস্তানের কাউকেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ