Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

অভিনন্দন ভারতীয় সেনা

অভিনন্দন ভারতীয় সেনা
  • ৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিনন্দন ভারতীয় সেনা। পহেলগাঁও টার্গেট কিলিংয়ের ১৫ দিনের মাথায় বদলা নিল ভারত। রাফাল হামলা চলল একেবারে পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে। ২২ এপ্রিল এলইটি’র শাখা টিআরএফ-এর আক্রমণে ২৬ জন নিহত হন। মঙ্গলবার গভীর রাতে মাত্র ২৫ মিনিটে ভারত তারই জবাব দিল ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মাধ্যমে। বেছে বেছে ভারতীয় নারীদের সিঁদুর মুছে দেওয়ার বদলারই নাম ভারতীয় সেনার অপারেশন সিন্দুর। আসিম মুনিরের ডেরায় ঢুকে সফল এয়ার স্ট্রাইক ঘটাল ভারত। ভারতের যুদ্ধবিমান রাফাল গুঁড়িয়ে দিয়েছে ৯ জায়গায় জঙ্গিঘাঁটি। পাঁচটি পাক অধিগৃহীত কাশ্মীরে এবং চারটি পাকিস্তান ভূখণ্ডে। লস্কর, হিজবুলসহ তিন কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠনের হেড কোয়ার্টার ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। নিহত হয়েছে বেশকিছু জঙ্গিও। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাসুদ আজহারের ভাইসহ তাদের পরিবারের ১৪ জন। যেসব জঙ্গি ঘাঁটি টার্গেট করা হয়েছিল সেগুলিতে ফিঁদায়ে তৈরির ট্রেনিং চলত। মুম্বই হামলা, পার্লামেন্ট এবং জম্মু ও কাশ্মীর অ্যাসেম্বলি হামলা, কান্দাহারে বিমান হাইজ্যাক প্রভৃতি কাণ্ডে জঙ্গিরা এসব জায়গা থেকেই মন্ত্র নিয়ে গিয়েছিল। তাই ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘাঁটিগুলির গুরুত্ব বুঝতে বাকি থাকে না। প্রত্যাঘাত করা হয়েছিল উরির ১১ দিন পর এবং পুলওয়ামার ১২ দিন পর। তাই পহেলগাঁও নিয়ে অনেকেই ধৈর্য হারাচ্ছিলেন, ভাবছিলেন বদলা তবে আর কবে? ঠিকই, ভারত আচমকা বা অতর্কিত আক্রমণে যায়নি। যথেষ্ট সময় নিয়েই সুচিন্তিত জবাবই দিয়েছে। প্রথম সুযোগ দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানকেই। ভারতের দাবি ছিল, তারা এবার অন্তত মানবিকতার পরিচয় দিক। জঙ্গিদের মদতদান বন্ধ করুক পড়শি দেশ এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করুক। 

Advertisement

কিন্তু শান্তিকামী ভারতের উদ্দেশে উল্টে অক্ষমের আস্ফালনই করে গিয়েছে পাকিস্তান নানা স্তর থেকে। এদিকে, প্রথমে পহেলগাঁও কাণ্ডে পাক-যোগের অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহসহ সেসব আন্তর্জাতিক মহলকে অবগত করা হয়েছে। চলেছে ডিপ্লোম্যাটিক স্ট্রাইক। এরপর এক পক্ষকালের অপেক্ষা শেষে সমুচিত জবাব দিতে বাধ্য হল মোদির দেশ। লক্ষণীয় যে, পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিক এবং সেনাঘাঁটি আক্রমণে যায়নি ভারত। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয় যে, মুম্বই হামলার পর অসামরিক ভারতীয়দের উপর এত বড় আঘাত আর হয়নি। টিআরএফ’কে নিষিদ্ধ করার জন্য ভারত রাষ্ট্রসঙ্ঘে আবেদন জানিয়েছিল আগেই। কিন্তু পাকিস্তান তার বিরোধিতা করেছিল। যদিও টিআরএফ, এলইটি, লস্কর, জয়েশ, আইএসআই এবং পাকসেনা বস্তুত একই জিনিস। তবু ভারত নিশ্চিন্ত হওয়ার জন্য কিছুটা সময় নিয়েছিল। পহেলগাঁও কাণ্ডের পর ব্যবস্থা গ্রহণ দূর, উল্টে আসিম মুনির লাগাতার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছেন। ভারতের নিরীহ নাগরিকদের লক্ষ্য করে গোলাগুলি চলেছে। যাবতীয় প্রমাণ হাতে নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘ এবং বন্ধু দেশগুলিকে অবগত করে ভারত সমুচিত জবাব দেওয়ার সংকল্প নেয়। মঙ্গলবার গভীর রাতে তারই সফল প্রয়োগ ঘটেছে। বস্তুত রাষ্ট্রসঙ্ঘ এবং পাকিস্তান ইতিবাচক পদক্ষেপ করলে ভারতকে এতটা আগ্রাসী হওয়ার দরকার পড়ত না। তাই পরিস্থিতির দায়  পাকিস্তান এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘকেই নিতে হবে। বুধবার সকালে দুই মহিলা সেনা অফিসার সোফিয়া কুরেশি এবং ব্যোমিকা সিংকে পাশে নিয়ে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সংযত বিবরণ দেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি। এর থেকে এই বার্তাও পরিষ্কার যে, ভারত শুধু ধর্মনিরপেক্ষ নয়, নারীশক্তিতেও বলীয়ান এবং ভারতীয় নারী আসলে দুর্গতিনাশিনী। 
২০১৬ সার্জিকাল স্ট্রাইক এবং ২০১৯ বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকের পর এটাই ভারতের বৃহত্তম সামরিক অ্যাকশন। বিশেষজ্ঞদের মত, পাকিস্তানের তস্করসুলভ ছায়াযুদ্ধের এই জবাব পূর্ববর্তী দুটি অ্যাকশনের তুলনায় অনেক গুরুতর। ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর পাকিস্তানকে এটাই সবচেয়ে বড় জবাব। তবে এই অ্যাকশনে আত্মতুষ্ট হওয়ার কোনও জায়গা নেই। কারণ প্রতিপক্ষের নাম পাকিস্তান। তারা শিক্ষাগ্রহণের উপযুক্ত কোনোভাবেই নয়। একই ভুল, একই নষ্টামির পুনরাবৃত্তি করাই তাদের প্রাচীন প্রবৃত্তি। এই রাষ্ট্রশক্তি বস্তুত ‘সুইসাইড মোডে’ পরিচালিত। তাই ভারতকে আরও তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে এবং সদা প্রস্তুত থাকতে হবে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য। কেননা নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের চূড়ান্ত কর্তব্য। পহেলগাঁও নৃশংসতার পর ভারত ২১টি জঙ্গি ঘাঁটি চিহ্নিত করেছে। ৯টি দুরমুশ হওয়ার পর বাকি রইল আরও এক ডজন। তাই ভারতের দায়িত্ব এখনও শেষ হয়নি। দেখতে হবে ‘মিস অ্যাডভেঞ্চার’-এর হিম্মত পাকিস্তান দেখায় কি না। তাহলে সমঝে দিতে হবে। ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী অবশ্যই প্রস্তুত। সরকারকে পূর্ণ সমর্থন করেছে কংগ্রেসসহ সমস্ত বিরোধী দল। বস্তুত অপারেশন সিন্দুর গোটা ভারতকে এক সূত্রে গেঁথেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ