Bartaman Logo
৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২১ জুলাইয়ে কাল কোন সভায় যাবেন, ঘাটালে বিভ্রান্তি তৃণমূলে

সব দিন কারো সমান নাহি যায়। কবিগুরুর এই অমোঘ বাক্য আজ রাজ্যের রাজনৈতিক চালচিত্রে পদে পদে বর্তমান। গতবছরও রাজপাটে থাকাকালীন ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ে বিশাল শহিদ সমাবেশ করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল।

২১ জুলাইয়ে কাল কোন সভায় যাবেন, ঘাটালে বিভ্রান্তি তৃণমূলে
  • ২০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: সব দিন কারো সমান নাহি যায়। কবিগুরুর এই অমোঘ বাক্য আজ রাজ্যের রাজনৈতিক চালচিত্রে পদে পদে বর্তমান। গতবছরও রাজপাটে থাকাকালীন ধর্মতলায় ২১  জুলাইয়ে বিশাল শহিদ সমাবেশ করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। ৯৮ সালে দলের জন্মলগ্ন থেকেই এই দিনটিতে ঘাটালজুড়ে বিশাল উন্মাদনা দেখা যেত। কিন্তু ক্ষমতা যাওয়ার তিন মাসের মধ্যেই দলের কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে সেই পরিচিত ছবি উধাও। বর্তমানে দলের রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনে সেই পুরানো মেজাজ পুরোপুরি ম্লান।

Advertisement

এমনকী মহকুমা স্তরের নেতারাও রীতিমতো দোটানায় রয়েছেন। তাঁরা ঠিকই করে উঠতে পারছেন না যে, আদৌ আগামিকাল কলকাতায় দলের কোন কর্মসূচিতে তাঁরা যাবেন। মেয়ো রোডে ঋতব্রত তৃণমূলের মঞ্চে না কি বিড়লা প্ল্যানোটোরিয়ামের কাছে কালীঘাট তৃণমূলের মঞ্চে তাঁরা যাবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের ঘাটাল শহরের শেষ সভাপতি অরুণকুমার মণ্ডল বলেন, এবার আর দলীয়ভাবে বাস ভাড়া করা হচ্ছে না। প্রত্যেকটি ওয়ার্ড থেকে মাত্র কয়েক জন করে কর্মী নিজেদের উদ্যোগেই কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবেন।
তৃণমূলের ঘাটাল ব্লকের সর্বশেষ সভাপতি দিলীপ মাজির কণ্ঠেও একই সুর। তাঁর কথায়, তাঁরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারেননি ঠিক কোন শিবিরে যোগদান করবেন। তবে যদি শেষমেশ যান, তবে কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ স্মরণেই উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা বেশি। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এবার প্রত্যেকটি কর্মী ও নেতাকে সম্পূর্ণ নিজেদের দায়িত্বে এবং খরচে দলীয় কর্মসূচিতে যেতে হবে। দিলীপবাবু আরও বলেন, দলের তরফে এবার কোনো বাস বা গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না।
অবিভক্ত তৃণমূলের অন্য এক জেলার নেতা জানান, এবারের পরিস্থিতি অতীতের তুলনায় পুরোপুরি বিপরীত। যেহেতু কলকাতায় এক কিলোমিটারের একটি ত্রিভুজাকৃতি জায়গার মধ্যেই দুই তৃণমূল এবং কংগ্রেসের আলাদা শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, তাই এবার যে সব কর্মী বা নেতা বিভিন্ন গ্রাম থেকে সেখানে যাবেন। তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট সভাস্থলে আটকে থাকবেন না। মূলত রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বচক্ষে  পর্যবেক্ষণের জন্যই তাঁরা তিনটি সভাতেই ঢুঁ মারবেন।
এই কারণে এবার তিনটি সভার দর্শক আসনে দীর্ঘক্ষণ স্থির হয়ে বসে থাকা নেতা, কর্মী এবং সমর্থকের সংখ্যা খুবই নগণ্য হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ বেশিরভাগ মানুষকেই এক সভা থেকে অন্য সভায় ‘এদিক-ওদিক’ করতেই বেশি দেখা যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ