নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা: ভাঙড়ে তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খান খুনের ঘটনায় পলাতক আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিস। ধৃতেরা হল, রফিকুল খান ও জাকির খান। এই নিয়ে রাজ্জাক খুনের মামলায় মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিস। যদিও মূল মাথার নাগাল এখনও পায়নি পুলিস। কলকাতা পুলিসের এক সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে খুনের সময়, জাকিরই রাজ্জাকের গলা ও কাঁধের কাছে ধারালো অস্ত্রের কোপ মেরেছিল। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের পর রফিকুল হাসনাবাদে গা ঢাকা দিয়েছিল। তাকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাড়ি ভাঙড়ের চকমরিচা।
তবে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়ার উঠতি নেতা রাজ্জাক খান খুনের পর বারবার বয়ান বদল করছেন শাসকদলের স্থানীয়স্তরের নেতারা। যা নিয়ে দলের অন্দরে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। দলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, কেন একেক বার একেক রকম কারণ সামনে আনছেন দলীয় নেতারা। তবে কি কিছু আড়াল করতে চাইছেন কেউ? বিষয়টি নজরে রয়েছে লালবাজারের গোয়েন্দাদের।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই খুন আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীদের কাজ বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, আইএসএফ প্রথম থেকেই এই খুনের ঘটনার সঙ্গে তাদের যোগ নেই বলে আসছে। কিন্তু পরদিনই রাজ্জাকের দাদা তৃণমূলের দাবি উড়িয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জল্পনা উস্কে দেন। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই আমার ভাই খুন হয়েছে।’ অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন তিনি। প্রয়াত তৃণমূল নেতার দাদার এই দাবি অমূলক ছিল না। কারণ, কলকাতা পুলিসের তদন্তে একের পর শাসক ঘনিষ্ঠ কর্মীরা গ্রেপ্তার হয়েছে।
এসবের মধ্যে মঙ্গলবার ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক তথা ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লা নতুন করে অভিযোগ করেছেন, রফিকুল আইএসএফ কর্মী হিসেবে পরিচিত। সে দলবল সঙ্গে নিয়ে রাজ্জাকাকে খুন করেছে। স্থানীয়দের দাবি, ‘জমি-জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী আইএসএফ কর্মী রফিকুল খানের সঙ্গে রাজ্জাকের পুরনো বিবাদ ছিল। এর জেরেই খুন হয়েছেন রাজ্জাক।’ কিন্তু প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিসের দাবি, ‘বিজয়গঞ্জ বাজারের দখলদারি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে একটা দ্বন্দ্ব চলছিল। সম্ভবত তারই বলি হলেন রাজ্জাক। পাশাপাশি, ভাঙড়ে ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতেই শিবির বদলে একদা আরাবুল ঘনিষ্ঠ রাজ্জাকের দলের প্রভাবশালী মহলের কাছের লোক হয়ে উঠেন। কিন্তু পরে সেই গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনও কারণে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। যার পরিণতিতে এই খুন।’
এদিকে, রাজ্জাক খুনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভাঙড় কলেজ মাঠে তৃণমূলের প্রতিবাদ সভায় যোগ দেন শওকত মোল্লা। বুধবার প্রতিবাদ মিছিল। সভায় উপস্থিতি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বাহারুল ইসলাম দলীয় কর্মীদের বলেন, ‘প্রতিবাদ মিছিলে যে নেতা বেশি লোক আনতে পারবেন, তিনি পুরস্কৃত হবেন।’