Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সঙ্ঘের নেতা একইসঙ্গে বর্ধমান ও যোগীরাজ্যের ভোটার, বিতর্ক

সঙ্ঘের নেতা একইসঙ্গে বর্ধমান ও যোগীরাজ্যের ভোটার, বিতর্ক
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তিনি আরএসএসের শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সহ সভাপতি। বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। আবার তিনিই উত্তরপ্রদেশের বালিয়া লোকসভা কেন্দ্রের ভোটার। একই ব্যক্তির দু‌ই রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম থাকে কীভাবে? এই প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসকের দপ্তরেও এমন অভিযোগ জমা পড়েছে। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

ভোটার তালিকায় ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় বইছে। বাইরের বাসিন্দাদের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানো হয়েছে বলে শাসকদল রাজ্যজুড়ে ময়দানে নেমেছে। এই পরিস্থিতিতে আরএসএস নেতার ওই ‘কীর্তি’ সামনে আসায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তাঁর পূর্ব পুরুষদের আদি বাড়ি যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে। জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, শিউ মুনি সাউ এবং তাঁর দুই আত্মীয়ের দুই রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। 
যদিও শিক্ষক সংগঠনের নেতা শিউ মুনি বলেন, এই অভিযোগ ঠিক নয়। আমার জন্ম রানিনগরের জেকেনগরে। সেখা঩নেই পড়াশোনা করেছি। পরে বর্ধমানে ভোটার তালিকায় নাম তুলি। উত্তরপ্রদেশের বিষয়টি বলতে পারব না। 
বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, বিজেপি এভাবেই ষড়যন্ত্র করছে। উত্তরপ্রদেশে তারা কারচুপি করে জিতে আসছে। সেটা আমাদের দল বহুদিন ধরেই বলে আসছে। তা বারেবারে প্রমাণিত হয়েছে। আরএসএসের ওই নেতা এখানেও ভোট দেয় আবার দেখা যাবে উত্তরপ্রদেশে গিয়েও ভোট দিয়ে আসছেন। এসব নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তাঁরা পুরো সিস্টেমকে কালিমালিপ্ত করে আসছেন।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই আরএসএস নেতার এক আত্মীয়ের এপিক নম্বর দুই রাজ্যে একই। সেটা কীভাবে সম্ভব হল তা নিয়েও অনেকেই ধোঁয়াশায় রয়েছেন। এক আধিকারিক বলেন, প্রয়োজনে উত্তরপ্রদেশের ওই এলাকার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।
 দুই রাজ্যের ভোটার তালিকায় কারও নাম থাকতে পারে না। এক জায়গা থেকে বাদ দিতে হবে। তিনি এরাজ্যের খণ্ডঘোষ এলাকায় শিক্ষকতা করছেন। এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হলে তাঁকে উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে হবে। তৃণমূলের দাবি, দিল্লি সহ বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ভুয়ো ভোটার ঢুকিয়ে ফায়দা তুলেছিল। আচমকাই বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এরাজ্যেরও কয়েকটি বিধানসভায় তেমনভাবেই ভোটারের সংখ্যা আচমকা বেড়ে গিয়েছিল। তারপরই শাসকদল প্রতিটি জেলার নেতাদের বুথে বুথে ঘুরে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ দেখার নির্দেশ দিয়েছে। 
নির্বাচন কমিশনও এরাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে। শাসকদলের দাবি, বিজেপি এরাজ্যেও ভোটার তালিকায় কারচুপি করে বাজিমাত করার কৌশল নিয়েছে। বিজেপি নেতা প্রধানচন্দ্র পাল বলেন, তৃণমূল জানে ২০২৬সালে বিপর্যয় নিশ্চিত। সেকারণে এখন থেকে এসব অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ