অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: পূর্বস্থলীর পর এবার কাটোয়া। ভারতের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশিদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে! কাটোয়ায় খোঁজ মিলল দু’জন বাংলাদেশি নাগরিকের। তৃণমূলের অবশ্য দাবি, এমন ছ’জনের নাম পাওয়া গিয়েছে, যাদের কাটোয়া বিধানসভার ভোটার তালিকাতেও নাম রয়েছে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল কর্মীরা মাঠে নামতেই একে একে চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসছে। তাতে ঘুম উড়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনেরও। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভোটার তালিকায় এমন কারচুপির পিছনে কি কোনও চক্র সক্রিয়? তারাই কি বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতের ভোটার তালিকায় নাম ঢোকাচ্ছে?
পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘কাটোয়ার পানুহাটজুড়ে ৬ জন বাংলাদেশির নাম পাওয়া গিয়েছে, যাদের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। অথচ, কারও কোনও খোঁজ মিলছে না। কীভাবে এসব হচ্ছে, আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে জানাব। দলের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ভোটার তালিকা নিয়ে ঘুরতেই এসব বেরিয়ে আসছে। আমাদের আশঙ্কা, ভোট এলেই বাংলাদেশ থেকে এসে এরা ভোট দিয়ে যাবে।’
কাটোয়া-১ ব্লকের খাজুরডিহি পঞ্চায়েতের একাইহাট গ্রামটি শহর লাগোয়া। ওই গ্রামের ভোটার তালিকায় ২২ নম্বর অংশের বাসিন্দা ভবতোষ বৈরাগী৷ তাঁর দুই ছেলে উত্তম ও নরোত্তম দু’জনই বেঙ্গালুরুতে কাজ করেন। গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী সন্ধ্যা বৈরাগীকে নিয়ে থাকেন তিনি। ওই এলাকায় ভোটার তালিকায় অপু বৈরাগী নামে একজনের নাম পাওয়া গিয়েছে। একাইহাট এলাকায় তার কোনও খোঁজ নেই। অথচ, ভবতোষবাবুকে ভোটার তালিকায় তার ‘বাবা’ দেখানো হয়েছে। তৃণমূল কর্মীরা ভবতোষবাবুকে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি হতবাক! বলেন, ‘পাড়ায় দশ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে অপু এসেছিল। কিন্তু আমার ছেলে হিসেবে দেখিয়ে তার নাম কীভাবে ভোটার তালিকায় তোলা হল, আমি ভাবতেই পারছি না।’ ওই একই পাড়ার বাসিন্দা সুমন গাইনের গল্পটা একটু অন্যরকম। তার বাবা বিচরণ গাইন বাংলাদেশের নাগরিক। কিন্তু এদেশের ভোটার তালিকায় কীভাবে তার নাম রয়েছে, তা শুনে তাজ্জব সকলেই। সুমন বলছিলেন, ‘আমার বাবা বাংলাদেশে থাকেন। কিন্তু এখানেও দেখছি ভোটার তালিকায় বাবার নাম রয়েছে। কেন এমন হল বুঝতে পারছি না।’ বিজেপির সাংগঠনিক কাটোয়া জেলার সম্পাদক সীমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘এটা তো আমাদেরও প্রশ্ন। রাজ্যের প্রশাসন কেন এসব দেখছে না। আমরাও নির্বাচন কমিশনে জানাব।’
ক’দিন আগেই পূর্বস্থলী-২ ব্লকে একজনের খোঁজ মিলেছিল। যিনি বাংলাদেশের শিক্ষক। এদেশে তাঁর স্ত্রী রয়েছেন। দেখা যাচ্ছে, ওই বাংলাদেশি শিক্ষকের নাম রয়েছে এখানকার ভোটার তালিকায়। প্রশ্ন উঠছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তারা কি তাহলে তথ্য যাচাই না করেই তালিকায় নাম তুলছেন? গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বাংলাদেশ থেকে এসে অনেকেই এদেশে বসবাস করছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের নথি ব্যবহার করেই এদেশে ভোটার তালিকায় আত্মীয়-স্বজনরা নাম তুলছেন। এর পিছনে একটি চক্র কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠছে। চক্রটি মোটা টাকার বিনিময়ে এসব কাজ করে চলেছে। কিন্তু কিসের উদ্দেশ্যে নাম তোলা হচ্ছে, তা নিয়ে সরগরম বঙ্গের রাজনীতি। যুযুধান তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।