নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ছ’জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের জেরে এগরার সারদা শশীভূষণ কলেজে নজিরবিহীন সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ২৯মে টিচার ইনচার্জ চয়ন রঞ্জিত ইস্তফাপত্র জমা করেন। রবিবার ছুটির দিনে কাঁথিতে এনিয়ে গভর্নিং বডির জরুরি বৈঠক হয়। সেখানে টিচার ইনচার্জের ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়নি। এদিন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি তথা এগরার বিধায়ক তরুণকুমার মাইতি জানিয়েছেন, কলেজের চেকে তিনি সই করবেন না। তাঁর পরিবর্তে কমিটির সরকার মনোনীত প্রতিনিধি সই করবেন। যদিও মিটিংয়ে সরকার মনোনীত প্রতিনিধি বাদলঅশ্রু ঘাঁটা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। যেকারণে কলেজে অচলাবস্থা তৈরি হতে চলেছে।
গত ৩১ জানুয়ারি এগরা সারদা শশীভূষণ কলেজের অধ্যক্ষ দীপককুমার তামলি অবসর নেন। তিনি অবসর নেওয়ার মুখে কলেজের জমি জলের দরে তৃণমূল নেতাদের আত্মীয়দের বিক্রির বিষয়টি সামনে আসে। সেই খবরে হইচই পড়ে যায়। গত ১ফেব্রুয়ারি থেকে কলেজের টিচার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বভার নেন চয়নবাবু। তিনি দায়িত্ব দেওয়ার কয়েকদিন পর জানা যায়, দীপকবাবু অবসর নেওয়ার ঠিক আগেই ছ’জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করেছেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের দৈনিক মজুরি হিসেবে পেমেন্ট করা হতো। তিনি অবসর নেওয়ার পর সেই ছ’জন কর্মীর মাইনে নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। গভর্নিং বডির সভাপতি তরুণবাবু কোনও অবস্থায় তাঁদের মাইনের বিলে সই করবেন না বলে সাফ জানান।
এমনিতেই কলেজের নিজস্ব ফান্ডের অবস্থা করুণ। অস্থায়ী কর্মীদের মাইনে দিতে হিমশিম অবস্থা। তার উপর ছ’জন অস্থায়ী কর্মীর অতিরিক্ত মাইনের চাপ আসায় গভর্নিং বডির সভাপতি তরুণবাবু তাঁদের পেমেন্ট নিয়ে বেঁকে বসেন। এদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তহবিল বাড়াতে ২০২৫-২৬শিক্ষাবর্ষে ছাত্রভর্তিতে মাথাপিছু ফি ৫৫০টাকা বৃদ্ধি করেছে। গতবছরের তুলনায় একলপ্তে মাথাপিছু ৫৫০টাকা ভর্তি ফি বৃদ্ধিকে হাতিয়ার করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ কলেজের টিচার ইনচার্জকে ঘিরে বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করেছে। বিক্ষোভের চারদিন আগে কলেজে ভাঙচুরও হয়েছে। আপাতত ওই ছ’জন অস্থায়ী কর্মীকে কলেজে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একটি গোষ্ঠী তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে কলেজের উপর চাপ বৃদ্ধি করেই চলেছে।সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় গভর্নিং বডির সভাপতি তরুণবাবুর সঙ্গে কলেজের টিচার ইনচার্জ চয়নবাবুর মতপার্থক্য হয়। তারউপর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের চাপে টিচার ইনচার্জ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে ২৯মে চিঠি দেন। প্রিন্সিপালের জন্য বরাদ্দ চেয়ার ছেড়ে তিনি পাশে অন্য একটি চেয়ারে বসছেন। এই অবস্থায় রবিবার গভর্নিং বডির জরুরি মিটিং হয়। সেই মিটিংয়ে কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসেনি। শুধুমাত্র টিআইসির ইস্তফাপত্র গৃহীত হল না বলে তাঁকে জানানো হয়। কিন্তু, চেকে সই নিয়ে জটিলতা থেকেই গিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে কলেজের গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হবে। ওই কমিটির একাধিক সদস্য বলছেন, কলেজে যা অবস্থা তাতে মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছি।গভর্নিং বডির সরকার মনোনীত সদস্য বাদলঅশ্রুবাবু বলেন, রবিবার গভর্নিং বডির মিটিং হয়েছে। সেখানে টিআইসির ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়নি। অন্যান্য সমস্যার সমাধান সেভাবে হয়নি। অচলাবস্থা তৈরি হতে চলেছে। গভর্নিং বডির সভাপতি তরুণবাবু বলেন, সমাধানসূত্র বের করার চেষ্টা চলছে।