নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যাচ্ছে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিক কাউন্সিলারের দ্বন্দ্ব চরম আকার নিয়েছে। পুরসভার বোর্ডের বৈঠকে অধিকাংশ কাউন্সিলার গরহাজির থাকছেন। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নিস্ক্রিয়তা ও দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ উঠছে। পুরসভার সামগ্ৰিক কাজকর্মে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
২০১৩ সালে বামেদের হাত থেকে ঝাড়গ্ৰাম পুরসভা দখল করে তৃণমূল। পুরসভার প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন শিবেন্দ্রবিজয় মল্লদেব। তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার মেয়াদ ২০১৮ সালে শেষ হয়। ’২২ সালে পুরভোটে পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টিতে জয়লাভ করে তৃণমূল। দল কবিতা ঘোষকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়। গত লোকসভা ভোটের ফলাফলে ঝাড়গ্রাম পুরসভায় বিজেপি ১১টি আসনে এগিয়েছিল। তৃণমূল ছ’টি আসনে লিড নেয়। একটি ওয়ার্ডে দুই পক্ষ সমান ভোট পাওয়ায় টাই হয়। পুরসভার এক কাউন্সিলার পরাজয়ের দায় স্বীকার করে সেইসময় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন, যা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে শোরগোল পড়ে যায়। তারপর থেকেই চেয়ারম্যান ও একাধিক কাউন্সিলারের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়তে শুরু করে। আগামী বিধানসভা ভোটের আগে সেই দ্বন্দ্ব চরম আকার নিয়েছে। বোর্ড মিটিংয়ে একাধিক কাউন্সিলার গরহাজির থাকছেন। ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন চেয়ারম্যানের নিস্ক্রিয়তা ও অসম্মানজনক আচরণের বিরুদ্ধে। দলের উপর মহল পর্যন্ত বিবাদের বিষয়টি গিয়েছে।পুরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শিউলি সিংহ বলেন, মানুষের কাজ করার জন্য এখানে এসেছি। শপথ নিয়েছি। এই বোর্ডে কথা বলার মতো পরিস্থিতি নেই। বোর্ডের মেয়াদ তিনবছর অতিক্রান্ত হতে চলল। এলাকার রাস্তা, জল, লাইটের সমস্যার কথা লিখিতভাবে জানাচ্ছি। কিন্তু কোনও কাজ হচ্ছে না। অসম্মানজনক আচরণের সম্মুখীন হচ্ছি। এলাকার মানুষের সামনে এখন দাঁড়াতে পারছি না। ১নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ছবি দাস বলেন, মাসে একটি বৈঠক হয়। কিন্তু কোনও কাজ হচ্ছে না। বিরক্ত হয়ে একাধিক কাউন্সিলার আসেন না। অবশ্য এই ওয়ার্ডে একটি ড্রেন ও ছোট পিচ রাস্তা সংস্কার হয়েছে। কলগুলি খারাপ হয়ে পড়ে আছে। পানীয় জলের ট্যাঙ্ক পাঠানো হয়। কিন্তু সবাই সবসময় জল পায় না। রাস্তার ১০-১২টি লাইট খারাপ হয়ে পড়ে আছে। সেগুলি সারাতে সময় লাগবে বলা হচ্ছে। এলাকার মানুষ অন্ধকার রাস্তায় চলাফেরা করছেন। বারবার জানিয়ে হয়রান হয়ে গিয়েছি।
২নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার গৌরাঙ্গ প্রধান বলেন, চেয়ারম্যান দুর্ব্যবহার করেন। সম্মান বাঁচাতে অনেক কাউন্সিলার বৈঠকে যান না। দলের উপর মহলে জানিয়েছি। জনগণের প্রতিনিধিরা কেন কাজ করতে পারছেন না, তা দেখা হোক। ৯নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রশান্ত রায় বলেন, ওয়ার্ডের ছোট দু’টি কাজের কথা বলেছিলাম। চেয়ারম্যান ফান্ড নেই বলে জানিয়ে দেন। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে জেলাশাসককে জানাই। তারপরই কাজ হয়ে গিয়েছে। এভাবে এখন বাসিন্দাদের জন্য কাজ করছি।
ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, বিষয়টি উপর মহলে জানানো হবে। চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠকে বসব। পুরসভার চেয়ারম্যান কবিতা ঘোষ বলেন, অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে এখন কোনও মন্তব্য করব না। যথাসময়ে যা বলার বলব।