নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শিল্পাঞ্চলের বালি কারবার নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল রানিগঞ্জে। রানিগঞ্জ থানার তিরাটের হাড়াভাঙা ব্রিজের সামনে প্রবল বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, হাড়াভাঙা ব্রিজটি ছ’চাকা লরি যাওয়ার উপযোগী। সেখানেই ১৬ চাকা ১৮ চাকা বালি বোঝাই লরি ছুটছে। অত্যন্ত দুর্বল সেতু যে কোনও সময়ে ভেঙে পড়বে। সেতু ভাঙলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সেই আশঙ্কা থেকেই বালি বোঝাই ডাম্পার ও লরি পরিবহণ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীদের হাতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা।
আন্দোলনকারীরা বলেন, আমরা তৃণমূল কর্মী। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন গ্রামের রাস্তার দিয়ে ভারী বালি বোঝাই লরি যাতায়াত করবে না। তার পরও কী করে দিনের পর দিন এই ঘটনা ঘটছে? স্থানীয় প্রশাসনকে অভিযোগ করলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় না বলে আক্ষেপ বাসিন্দাদের। তিরাট পঞ্চায়েত এলাকার পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে দামোদর নদ। দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকার বালি কারবার সক্রিয় রয়েছে। পরবর্তী কালে ই অকশনের মাধ্যমে বালি ব্লক বিতরণের সময়েও ব্যাপক পরিমাণ বালি উত্তোলন শুরু হয়। পাশাপাশি বাসিন্দাদের বিড়ম্বনা বাড়ে। আগে ট্রাক্টরে করে বালি পাচার হতো। এখন বৈধ বালি ব্লক থেকে বিশালাকার লরি চলে গ্রামের রাস্তা দিয়েই। তাতেই ভেঙে পড়ছে রাস্তা, বেহাল সেতু। এই এলাকার নাম করে নির্দিষ্ট করে অভিযোগ জমা পড়েছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রকেও। তারা রিপোর্ট তলব করেছে। তারপরই এদিনের ঘটনা। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, লরিগুলিতে যে বালির চালান দেখা যাচ্ছে, তা পুরুলিয়া জেলার। তাহলে কেন এখান দিয়ে বালি পরিবহণ হচ্ছে।
জেলা সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি বলেন, আমরা ব্রিজটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সেই সময়ে প্রাক্তন এডিডিএ চেয়ারম্যান তা করার কথা জানিয়ে ছিলেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। সেখানে ব্রিজ সংস্কার করা যায় কি না।অতিরিক্ত জেলাশাসক অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি।