সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: রাত নেমে গিয়েছিল বলে কুমিরটিকে ধরা যায়নি। সেটিকে দুপুরেও পুকুরে সাঁতার কাটতে দেখা গিয়েছিল। তারপর অন্ধকার নামায় পুকুরের চারধারে চড়া আলোর হ্যালোজেন জ্বালিয়ে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল। সোমবার রাতে কার্যত টেনশনে ঘুম হয়নি গ্রামের কারও। মঙ্গলবার সকালে বনদপ্তর কুমিরটিকে পুকুর থেকে তোলার কাজে নামে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটি বাচ্চা কুমির উদ্ধার হয় পুকুর থেকে। এতে দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। গ্রামবাসীদের দৃঢ় ধারণা, বড় কুমিরটি পুকুরেই রয়েছে ঘাপটি মেরে। দুশ্চিন্তার আর একটি কারণ আরও ভয়ানক। গ্রামবাসীদের অনেকে মনে করছেন, কুমির এখানে এসে ডিম পেড়েছে।এখানেই বাচ্চা হয়েছে। ফলে জগদ্দল নদী থেকে একটি না গ্রামে ঢুকেছে একাধিক কুমির। ফলে বেড়েছে আতঙ্ক।
প্রথমে সকলে মনে করছিল, নদী পেরিয়ে একটি কুমির পাথরপ্রতিমার ব্রজবল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ গোবিন্দপুরের একটি পুকুরে ঢুকে পড়ে। সোমবার দুপুরে একজন পুকুরের পাড়ে কুমিরটিকে শুয়ে থাকতে দেখেন। একটু পরে গ্রামবাসীরা সেটিকে পুকুরে ভাসতে দেখেন। এরপর ভগবতপুর কুমির প্রকল্প থেকে রাতেই আসেন বনদপ্তরের কর্মীরা। রাত হয়ে যাওয়ায় পুকুরে জাল টানা তখন সম্ভব হয়নি। চারদিকে চড়া আলোর হ্যালোজেন জ্বালিয়ে পাহারা রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ বনদপ্তরের কর্মীরা পুকুরে নামেন। জাল টানেন। প্রায় দু’ঘণ্টা জাল টানার পর ধরা পড়ে একটি কুমিরের বাচ্চা। সেটির দৈর্ঘ্য দু’ফুটের মতো। শিশু কুমিরটি সুস্থই রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেটিকে আপাতত ভগবতপুরের প্রকল্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে কুমিরের বাচ্চা উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই নতুন করে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। নিশিকান্ত পাল নামে এক গ্রামবাসী বলেন, ‘কুমিরের বাচ্চা ধরা পড়েছে। কিন্তু বড় কুমিরটি রয়ে গিয়েছে পুকুরে। সেটি ধরা না পড়া পর্যন্ত নিশ্চিন্ত হতে পারছি না।’ অন্যান্য গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ‘নদী পেরিয়ে একাধিক কুমির হয়ত চলে এসেছে গ্রামে। চোখে পড়েনি বলে জানা যাচ্ছে না।’ এই আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিচ্ছে না বনদপ্তরও। গ্রামটি বড়। অনেকগুলি পুকুর রয়েছে। সেগুলিতে একাধিক কুমির লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকতেও পারে বলে অনুমান তাঁদের।এদিন বনদপ্তরের কর্মীরা জাল টেনে দু’টি পুকুরে তল্লাশি চালায়। কিন্তু বড় কুমিরের সন্ধান মেলেনি। গ্রামটিতে একাধিক পুকুরের পাশাপাশি ধানের খেত রয়েছে। আকাটা ধানের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে কুমির, তৈরি হয়েছে এই আশঙ্কাও। আপাতত বনদপ্তর সাবধানে থাকতে বলেছে গ্রামবাসীদের। পুকুরে নামা বারণ। আর গ্রামবাসীরা রাতে নিজেদের পুকুরের পাড়ে আলো জ্বালিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছেন। নিজস্ব চিত্র