নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বাড়ির কর্তা রয়েছেন। কিন্তু গিন্নিরা খাতায়-কলমে ‘নিখোঁজ’। যার জেরে উদ্বেগ বেড়েছে বাড়ি বাড়িতে। আসলে উদ্বেগ ‘নিখোঁজ’ হওয়া নিয়ে নয়। উদ্বেগের নাম ‘এসআইআর’। শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে, স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই ইনিউমারেশন ফরম জমা দিয়েছিলেন। কোথাও স্ত্রীর নাম বাদ গিয়েছে ‘নিখোঁজ’ বলে, কোথাও আবার ‘মৃত’ দেখিয়ে বাতিলের তালিকায় নাম এসেছে। সাধারণ নাগরিকরা এই হয়রানির জন্য দুষছেন নির্বাচন কমিশনকেই।
খড়দহ বিধানসভার বন্দিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন বৈদ্য। তাঁর স্ত্রীর নাম আমিনা বেগম। এই দম্পতি ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছিলেন। কিন্তু খসড়া তালিকায় স্বামীর নাম থাকলেও, আমিনা বেগমের নাম নেই। সেখানে তাঁকে ‘স্থানান্তরিত’ বা ‘নিখোঁজ’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এনিয়ে তীব্র আতঙ্কে ভুগছেন দম্পতি। সন্ত্রস্ত আমিনা বেগমের প্রশ্ন, বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় ছিল। তাও আমার নাম নেই। এবার কি তাহলে আমাকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাবে?
উদয়নারায়নপুরের পেঁড়ো থানার বাসিন্দা গৃহবধূ মিনতি সাধুখাঁ। তাঁর পরিবারের দাবি, খসড়া তালিকায় তাঁকে ‘নিখোঁজ’ দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রীতিমত দুশ্চিন্তায় ওই গৃহবধূ। গহবধূর স্বামী শম্ভু সাধুখাঁর বক্তব্য, ‘২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার স্ত্রীর নাম ছিল। ২০২৫ এর ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম আছে। খসড়া ভোটার তালিকায় আমার নাম থাকলেও, স্ত্রী মিনতির নাম নেই।’
উত্তর দমদম পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গণেশ রাও। তাঁর স্ত্রীর নাম জি পলি। গনেশবাবু বেসরকারি সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার। এই দম্পতিও একইসঙ্গে ইনিউমারেশন ফর্ম জমা করেছিলেন। তাঁরা ওই ওয়ার্ডের ১২২ নম্বর পার্টের ভোটার। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, গণেশবাবুর নাম রয়েছে। কিন্তু পলিদেবীকে ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। পলিদেবী বলেন, ‘আমরা এখানকার বাসিন্দা। আমার বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল। কিন্তু এবার আমার নাম নেই!’ ওই ওয়ার্ডে তৃণমূলের ওয়ার্ড ইলেকটোরাল সুপারভাইজার সুব্রত কর বলেন, ‘২ বছরের কাজ ২ মাসে শেষ করতে গিয়ে এমন বহু ভুল হয়েছে। এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনের।’ চাকদহ পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে সোমনাথ লাহিড়ী নামে এক জীবিত ব্যক্তি খসড়া তালিকায় ‘মৃত’। নৈহাটি বিধানসভায় জেঠিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সোমেশ্বর কর্মকার। খসড়া ভোটার তালিকায় তিনি ‘মৃত’। তাঁর চক্ষু চড়কগাছ। যোগাযোগ করেছেন স্থানীয় বিধায়ক সনৎ দে থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে। নৈহাটির বিধায়ক সনৎ দে বলেন, সোমেশ্বর বাবুর সমস্ত ধরনের কাগজ আছে। এই তো হল কমিশনের কাজ।
এদিকে, হুগলির চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার লাবণী ঘোষের নাম মৃত হিসেবে রয়েছে খসড়া তালিকায়। একইভাবে উত্তরপাড়া বিধানসভায় এক বিএলএ-র আত্মীয় শ্যমল খাঁটুয়ার নাম ‘মৃত’র তালিকায় চলে এসেছে বলে অভিযোগ।