নিউ ইয়র্ক, ১৩ এপ্রিল: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন করে কড়া পদক্ষেপ ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে ইরানের সব বন্দর কার্যত অবরোধের আওতায় আনা হবে। রবিবার সন্ধ্যায় সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অবরোধ 'সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য' হবে। অর্থাৎ, ইরানের বন্দর বা উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ বা সেখান থেকে বেরোনোর ক্ষেত্রে কোনও দেশের জাহাজকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ওমান উপসাগরও সংলগ্ন বন্দরগুলিতেও একই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। যে কোনও দেশের জাহাজই হোক, ইরানের বন্দরে ঢোকা বা বেরোনোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে। এমনটাই সাফ জানানো হয়েছে সেন্টকমের বিজ্ঞপ্তিতে। তবে হরমুজকে এই অবরোধের থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, যেসব জাহাজ ইরান বহির্ভূত বন্দরগুলির মধ্যে চলাচল করছে, তাদের জন্য হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে।
ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়ে গিয়েছে। বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, খুব তাড়াতাড়ি মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ কার্যকর করা শুরু করবে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকির থেকে সেন্টকমের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন।
এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৪.২৪ ডলারে পৌঁছেছে। অপরদিকে ব্রেন্ট ক্রডের দাম ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০২.২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর থেকেই ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। এরপর থেকে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চালানকে থমকে দিয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পরেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। সূত্রের খবর, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেকটাই কম।