সংবাদদাতা, বজবজ: বাজ পড়লেই চিন্তা বাড়ে ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলার। কারণ এর আগে বজ্রপাতের জেরে বিভিন্ন থানা এলাকায় বসানো সিসি ক্যামেরার সুইচ পুড়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, লাগাতার বৃষ্টির কারণে প্রায় ৩০০ ক্যামেরায় জল ঢুকে সেগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ওইসব সিসি ক্যামেরা আর কাজ করছে না। ফলে কোথাও কোনও ঘটনা ঘটলে তার ফুটেজ পেতে কালঘাম ছুটছে পুলিশের। জেলার পুলিশ কর্তারা একারণে উদ্বিগ্ন। পুলিশ সুপার বিশপ সরকার বলেন, সিসি ক্যামেরার এই সমস্যা সমাধানের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
সাড়ে চার বছর আগে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমপি ল্যাডের টাকায় বিষ্ণুপুর, বজবজ, মহেশতলা সহ ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলার অধিকাংশ থানা এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের তরফেও কিছু জায়গায় সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়। সব মিলিয়ে সেই সংখ্যা কয়েক হাজার হবে। এইসব ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ বহু তদন্তের কিনারা করেছে। কিন্তু দু’বছর পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা অচল হতে শুরু করে। মূলত বৃষ্টির জল ঢোকার ফলেই এই সমস্যা। কোথাও কোথাও আবার জনস্বাস্থ্য কারিগরি এবং পূর্তদপ্তর কাজ করার সময় সেগুলি নষ্ট হয়েছে। পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, এছাড়াও বজ্রপাতের ফলে অনেক জায়গায় সুইচ পুড়ে গিয়েছে। সিসি ক্যামেরাগুলি ও সুইচ সারাতে হলে অনেক টাকা দরকার। অত টাকা পুলিশ জেলার হাতে নেই। হাতে টাকা এলে তখন আমরা কিছু কিছু করে মেরামত করে থাকি। এখন সব মিলিয়ে ৫০০টি সিসি ক্যামেরা কাজ করছে। তারমধ্যে ৮৪টি মেরামত করে লাগানো হয়েছে মহেশতলায়। পুজালিতে মাত্র ১২টি ক্যামেরা চলছে। রবীন্দ্রনগর ও কালীতলা আশুতি থানা এলাকায় কোনও সিসি ক্যামেরা এখন নেই।
ওই শীর্ষ আধিকারিক বলেন, বাজ পড়ে সুইচ পুড়ে গেলে তা তাড়াহুড়ো করে মেরামত করা যায় না। একেকটি সুইচের দাম চার হাজার টাকা। ইতিমধ্যেই ৪০টি সুইচ বাজ পড়ে নষ্ট হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, আমরা সিসি ক্যামেরা মেরামতের জন্য এবার কোনও কোম্পানির সঙ্গে বাৎসরিক চুক্তি করব বলে ভেবেছি। ওয়েবেল আমাদের ৫০০টি নতুন সিসি ক্যামেরা দেবে বলে কথা দিয়েছে। এছাড়াও তারা ২০০টি ক্যামেরা মেরামত করে দেবে বলেছে।