অভিষেক পাল, বহরমপুর: পেলভিসে জটিল ও বিরল অস্ত্রোপচার করে রোগীকে সুস্থ করে নজির গড়ল মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজের অর্থপেডিক সার্জেনরা। গত ১৫ ডিসেম্বর পথ দুর্ঘটনায় গুরতর জখম হয়েছিলেন নবগ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল শেখ। মুর্শিদাবাদ মেডিকেলে ভর্তি করা হয় তাঁকে। দু’টি গাড়ির মাঝখানে পড়ে গিয়েছিলেন ২৩ বছরের আশরাফুল। শরীরের নিচের অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসকরা তড়িঘড়ি এক্স-রে করে দেখেন, ডান দিকের পেলভিস হাড় ভেঙে বাঁদিকের হাড়ের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে। এমন মারাত্মক রোগী আগে কখনই আসেননি মুর্শিদাবাদ মেডিকেলে। গোটা রাজ্যে এই ধরনের জটিল অপারেশন আগে হয়েছে কিনা, তা মনে করতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। মেডিকেল জার্নালের তথ্য বলছে, এর আগে গোটা বিশ্বে মাত্র ১৭টি এই ধরনের কেসে অপারেশন করেছেন চিকিৎসকরা। ১৮তম অপারেশনটি করার সিদ্ধান্ত নেন মুর্শিদাবাদ মেডিকেলের অর্থপেডিক সার্জেনরা তড়িঘড়ি গঠন করা হয় টিম। পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওই দলটি প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অপারেশন করে। নেতৃত্ব দেন অর্থোপেডিক বিভাগের হিরন্ময় দেব। সঙ্গে ছিলেন অমরেন্দ্র নাথ রায়, নবারুণ সাহা, ওয়াসিম বারি, উৎপল সাহা প্রমুখ। ১৪ দিন পর সেলাই কেটে গত শুক্রবার ছাড়া হয়েছে আশরাফুলকে। এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। তবে, বেশ কিছুদিন বেডরেস্টে থাকতে হবে। তারপর হাঁটতে পারবেন তিনি। চিকিৎসকরা বলেছেন, মানব দেহে জোড়া পেলভিস হিপবোন দিয়ে গঠিত। ওই যুবক দুটো গাড়ির মাঝখানে পড়ে যায়। দু’পাশ থেকে চেপে যাওয়ার ফলে পেলভিসের একটি হাড় ভেঙে অপর হাড়ের মধ্যে ঢুকে যায়। লক পেলভিস পরিস্থিতিতে অপারেশন খুবই জটিল। এই ভাঙা হাড় প্রতিস্থাপন করতে দীর্ঘ সময় লাগে। হিরণ্ময়বাবু বলেন, ‘সামনের একটি পেলভিস বোন ভেঙে অপর পিছনের পেলভিস বোনের মধ্যে ঢুকে যায়। অত্যন্ত কঠিন এই অপারেশন। চার ঘণ্টা সময় লেগেছে অপারেশন করতে। এর আগে গোটা বিশ্বে ১৭টি এ ধরণের অপারেশন সফল হয়েছে। আমরা ১৮তম অপারেশনে সফল হলাম। আশরাফুলকে ছ’ সপ্তাহ বেডরেস্ট থাকতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে ওকে হাঁটাব আমরা।’ আশরাফুল বলেন, ‘সুস্থ হব ভাবতেই পারিনি। আমি চির কৃতজ্ঞ।’



