নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অনলাইন কেনাকাটা তথা লেনদেনে দিনদিন অভিযোগ বাড়ছে। এক্ষেত্রে ঠকে যাওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকায় ওয়াকিবহাল মহলে উঠছে প্রশ্ন। মাথায় হাত মোদি সরকারেরও। তাই কীভাবে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব, তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেই মতো সাম্প্রতিককালে ৭ কোটি ১৪ লক্ষ ৯০ হাজার ২৫৬ টাকা গ্রাহকদের ফেরৎ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। অনলাইন কেনাকাটার ই-কর্মাস প্ল্যাটফর্ম, বিমান সংস্থা, বিমা কোম্পানি, পর্যটনের ক্ষেত্রে অনলাইন ১০ হাজার ৩৭৩ টি লেনদেন থেকেই এই টাকা ‘উদ্ধার’ করা গিয়েছে বলেই উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে। গত দু মাসে এই কাজ হয়েছে। সর্বাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে অনলাইন কেনাকাটায় (৮ হাজার ৯১৯ টি)।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইন কেনাকাটার পাশাপাশি লেনদেনে ২০২৩ সালের মে থেকে ’২৪-এর জুন পর্যন্ত কেন্দ্রের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল ১২ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯৬৪ টি। তারপর থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে ১৩ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫৫৭ টি। ন্যাশনাল কনজিউমার হেল্পলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ জমা পড়েছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে উত্তরপ্রদেশ থেকে। তবে মন্ত্রক উদ্যোগ নিয়ে গ্রাহককে ঠকে যাওয়ার হাত থেকে রেহাই দিয়েছে। মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু মাসে যে ৭ কোটি টাকা বেহাত হওয়া আটকানো গিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও।
কলকাতার এক যাত্রী বিমানের টিকিট বাতিল হওয়ার পর টাকা রিফান্ড পাচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন। হেল্পলাইনের মাধ্যমে সেই অভিযোগ নথিভূক্ত করে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার থেকে ৮ লক্ষ ২৪ হাজার ৮৭৭ টাকা রিফান্ড পেয়েছেন। একইভাবে বর্ধমানের এক ক্রেতা অনলাইনে মুদির সামগ্রী কিনেও তা পাননি বলে অভিযোগ করেন। অর্ডার বাতিল হওয়ার পরেও সময় মতো টাকা পাননি। তবে হেল্পলাইনে অভিযোগ জানানোর পর ১ হাজার ৮৫৪ টাকা ফেরৎ পেয়েছেন। অনলাইনে লেনদেনে জালিয়াতি হলে ১৯১৫ টোলফ্রি নাম্বারে যেমন অভিযোগ জানানো যায়, একইভাবে ৮৮০০০০১৯১৫ নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ অথবা এসএমএস করেও অভিযোগ জানানো যায়।