Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়া হাসপাতালে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ, চোরের আতঙ্কে ঘুম উড়েছে রোগীর আত্মীয়দের

নির্দিষ্ট বিশ্রামাগার না থাকায় হাসপাতাল চত্বরেই তাঁরা যত্রতত্র চাদর পেতে শুয়ে পড়েন

হাওড়া হাসপাতালে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ,  চোরের আতঙ্কে ঘুম উড়েছে রোগীর আত্মীয়দের
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাতে চোরের আতঙ্কে ঘুম উড়েছে রোগীর পরিজনদের। নির্দিষ্ট বিশ্রামাগার না থাকায় হাসপাতাল চত্বরেই তাঁরা যত্রতত্র চাদর পেতে শুয়ে পড়েন। কিন্তু চোখে ঘুম এলেই বিপদ। কার মোবাইল ফোন, কার মানিব্যাগ চুরি হয়ে যাচ্ছে যখন তখন। চোরদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হাওড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীর আত্মীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী না থাকা এবং বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

Advertisement


হাওড়া জেলা হাসপাতালের মূল গেট দিয়ে ঢুকলেই সামনে পড়ে ছ’তলা এস এন দাস ভবন। এই ভবনেই রয়েছে জরুরি বিভাগ, মেল ও ফিমেল মেডিসিন, সার্জিক্যাল, প্রসূতি ও শিশুরোগ বিভাগ এবং বহির্বিভাগ। প্রতিদিন সকাল থেকেই একতলার ওপিডি অংশ উপচে পড়ে রোগীর ভিড়ে। ফলে বহু পরিবারকে রোগী নিয়ে বিল্ডিংয়ের বাইরেই অপেক্ষা করতে হয়। উপরে ইনডোরে ভর্তি থাকা রোগীদের পরিজনদেরও রাতভর বসে থাকতে হয় ভবনের বাইরে। এখন এই হাসপাতাল চত্বরে জোরকদমে চলছে নতুন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক নির্মাণের কাজ। এর ফলে হাসপাতালের একাধিক পুরনো অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে রোগীর পরিজনদের বসার তেমন জায়গা নেই। ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই রাতে নিউ বিল্ডিংয়ের সামনে থাকা শেডের নীচে কিংবা মর্গের কাছাকাছি আশ্রয় নেন। অভিযোগ, এই সুযোগে সক্রিয় হচ্ছে চোরের দল। ঘুমে চোখ জড়িয়ে এলেই হাতছাড়া হচ্ছে মোবাইল বা টাকার ব্যাগ। প্রতি সপ্তাহেই এমন অভিযোগ শুনতে হচ্ছে হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের। অনেকেই চুরির অভিযোগ জানাতে ছুটছেন হাওড়া থানায়।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পুরনো ও নতুন মিলিয়ে মোট ৪৫ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। একটি জেলা হাসপাতালে নিরাপত্তার জন্য এই সংখ্যা নগন্য বলেই অভিমত কর্মীদের একাংশের। হাসপাতাল চত্বরে প্রায় ৬০টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। তা নজরদারির জন্য যথেষ্ট নয় বলেই দাবি করেছেন তাঁরা। তাঁদের কথায়, রোগী ভর্তি নিয়ে কোনও ঝামেলা হলে বহিরাগতদের ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, হাসপাতালের আধুনিকীকরণের পাশাপাশি সেখানে পুলিশ কিয়স্ক বসানো এবং রোগীর পরিজনদের জন্য পৃথক প্রতীক্ষালয় তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ