নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিজের প্রয়োজনে সংস্থার মোটা টাকা সরিয়েছিলেন এক কর্মী। সেই টাকা লুকিয়ে রেখে মিথ্যে গল্প ফেঁদে পুলিসের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। পুলিসের জালে ধরা পড়ল যুবক। উদ্ধার হয়েছে ব্যাগ ভর্তি টাকা। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে যাদবপুরের পালবাজারে। ধৃতের নাম রতন সরকার। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার বাসিন্দা ধৃত যুবক বারাসতের একটি বেসরকারি ল’ কলেজের ছাত্র বলে প্রাথমিক তদন্তে গরফা থানার পুলিস জানতে পেরেছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত সোয়া ১১টা নাগাদ রতন সরকার নামে ওই যুবক হন্তদন্ত হয়ে গরফা থানায় আসেন। থানায় ঢুকেই তিনি পুলিসের কাছে অভিযোগ করেন। রতন জানান, আর পাঁচটা দিনের মতো রাত ১০টা নাগাদ তিনি পালবাজারের কাছে রেল লাইনের ধারে স্কুটার দাঁড় করিয়ে উল্টো দিকের লটারির দোকান থেকে টাকা আনতে যাচ্ছিলেন। সেই টাকা মালিকের অফিসে জমা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। যুবক দাবি করেন, ঠিক তখনই অজ্ঞাতপরিচয় তিন দুষ্কৃতী তাঁকে রেল লাইনের ধারে অন্ধকারে টেনে নিয়ে যায়। তারপর তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে আড়াই লক্ষ টাকা বোঝাই ব্যাগ এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
টাকা লুটের অভিযোগ পেয়ে রাতেই তড়িঘড়ি তদন্তে নামে গরফা থানার টিম। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ল’ কলেজের ছাত্র রতন সরকারকে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে পুলিস লক্ষ করে পালবাজারে রেল লাইনের ধারে ওই যুবক স্কুটার পার্ক করলেও, তার ত্রিসীমানায় দুষ্কৃতী তো দূর কোনও লোকজনের দেখা নেই! এতেই সন্দেহ হয় গরফা থানার তদন্তকারী দলের।
ততক্ষণে সংস্থার আড়াই লক্ষ টাকা লুটের খবর পেয়ে গরফা থানায় চলে এসেছেন মালিক পঙ্কজ আগরওয়াল। তিনি পুলিসকে জানান, ‘রবিবার রাত ন’টার পর থেকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না রতন সরকারকে। তার ফোন ‘সুইচড অফ’ ছিল।’ অথচ থানায় ঢুকে, পুলিসকে রতন বলেছিল, রাত দশটা নাগাদ দুষ্কৃতী দলটি হানা দিয়েছিল। এই জোড়া অসঙ্গতি সামনে আসতেই টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে গভীর রাতে ভেঙে পড়েন যুবক। এরপরই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। ধৃতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেলিমপুর ব্রিজের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় পুরো টাকা।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রতন পুলিসকে জানিয়েছে, ‘প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার টাকা খরচ করে তিনি বারাসতের এক বেসরকারি ল’কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছিলেন না। বাড়তি টাকা জোগার করতেই তিনি সংস্থার এই টাকা লুটের পরিকল্পনা করেছিলেন।’ অভিযুক্ত সত্যি বলছে, না কি পুলিসকে বিভ্রান্ত করতে নতুন করে কোনও গল্প ফেঁদেছে, জানার চেষ্টা করছে পুলিস। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, যুবকের বাড়ির আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। সংস্থার ভাড়া করে দেওয়া সন্তোষপুরের একটি মেসেই তিনি অন্য কর্মীদের সঙ্গে থাকতেন।
এদিকে, ধৃত রতন সরকারকে সোমবার দুপুরে আলিপুর আদালতে হাজির করানো হলে, আদালত তাকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিস হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।