সংবাদদাতা, তেহট্ট : দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে বাস চলত কৃষ্ণনগর – পাটিকাবাড়ি ঘাট ভায়া তারানগর নিশ্চিন্তপুর রুটে। তখন মানুষের তেহট্ট বা কৃষ্ণনগর বা অন্য জায়গায় যাওয়ার সুবিধা ছিল। বর্তমানে সেই রুটে টোটো অটোর দাপটে কোনও বাস না চলায় অসুবিধার সম্মুখীন এলাকার বাসিন্দা থেকে ছাত্রছাত্রী সকলেই। তাই বন্ধ বাস পরিষেবা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
দীর্ঘদিন কৃষ্ণনগর—পাটিকাবাড়ী ভায়া তারানগর নিশ্চিন্তপুর হয়ে বেশ কয়েকটি বাস চলাচল করত।এমনকি কুলগাছি ঘাট থেকে বহরমপুর বাসও এই রুটে চলতো। এর ফলে রঘুনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আরশিগঞ্জ, রঘুনাথপুর, নিশ্চিন্তপুর, তারানগর, ধাওরাপাড়া সহ একাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ সহজেই বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে পারতো। এই এলাকার বাসিন্দাদের নিত্য প্রয়োজনে তেহট্টে বা পলাশীপাড়া যেতে হয়। তেহট্টে আদালত, মহকুমা অফিস, পরিবহন দপ্তর, কলেজ ও পলাশীপাড়ায় ব্যাঙ্ক, ব্লক অফিস, ভুমি দপ্তর রয়েছে। ফলে ছাত্রছাত্রী থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সব কিছুর জন্য যেতে হয় তেহট্টে না হয় পলাশীপাড়ায়। এই বাস পরিষেবা না থাকায় চরম হয়রানির স্বীকার হয় বাসিন্দারা। টোটো বা অটোতে যাতায়াত করতে সাধারণ মানুষের যেমন সময় বেশি লাগছে তেমন অর্থ ব্যয়ও বেশি হচ্ছে। তাই এলাকার মানুষের দাবি আবার এই বাস সার্ভিস পুনরায় চালু হোক। বাস পরিষেবা চালু হলে রাত্রে নিশ্চিন্তে বাড়ী ফিরতে পারবে গ্রামের মানুষগুলো। সন্ধ্যার পরে বা রাতের দিকে কৃষ্ণনগর বা কলকাতায় বিভিন্ন কাজে যাওয়া মানুষগুলো বাড়ী ফেরার পথে বাস থেকে নামতে হয় আরশিগঞ্জ বা ধাওরাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে। তারপর গন্তব্যে পৌছানো বড় সমস্যার। রাতের দিকে হেঁটে বাড়ি যেতে হয়। কোনও রিকশ বা টোটো পাওয়া যায় না। জেলা শহর বা কলকাতা থেকে রাত আটটার পরে বাড়ী ফিরতে কালঘাম ছুটে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এই বাস পরিষেবা যাতে পুনরায় চালু হয় সেদিকে প্রশাসনের নজর দিলে ভালো হয়। এতে আমরা রাতে স্বাচ্ছন্দে ঘরে ফিরতে পারব। ব্যবসার সুবাদে অনেক সময় ফিরতে রাত হয়ে যায়। বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হলে আতঙ্ক থেকে মুক্ত থাকতে পারব। পরিবহণ দপ্তরের অনুমতি নিয়ে রোটেশনে সাত থেকে দশটি বাস নিয়মিত চলত। ইদানিং এই সব গ্রামে কোন বাসের চাকা ঘোরার শব্দ পাওয়া যায় না। এই বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হলে উপকৃত হবে এলাকাবাসী। রাতে বাস থেকে নামতে হয় রাধানগর বাসষ্ট্যান্ডে, ওখান থেকে বাড়ী ফিরতে হয় হেঁটে। দিনকালের যা অবস্থা বাড়ী ফিরতে হয় প্রাণ হাতে করে। যদি কোনও গাড়ি পাওয়া যায়তো ভাড়া হাকে নিজেদের মর্জিমাফিক। যা গ্রামের দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের সাধ্যের বাইরে। তাই মানুষের দাবি, এই বাস সার্ভিস পুনরায় চালু হোক। বাস মালিক সমিতির সভাপতি সাধন বিশ্বাস বলেন, অবৈধ টোটো ও অটোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আমরা আবার ওই রুটে বাস চালাব। এই বিষয়ে তেহট্ট আঞ্চলিক পরিবহনের এ আর টি ও অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।