নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শিবপুর ও দক্ষিণ হাওড়ার দীর্ঘদিনের যানজট, নিত্যভোগান্তির অন্যতম কারণ রামরাজাতলা এবং বাকসাড়া রেল ক্রসিং। ঘনঘন রেলগেট বন্ধ থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। বহুবার অ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়ে প্রাণহানির অভিযোগও উঠেছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে এবার দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা সারলেন শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। জমি সংক্রান্ত জটিলতা কাটলে দুই রেল ক্রসিংয়ে আন্ডারপাস বা সাবওয়ে নির্মাণের পথে এগনোর ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি বিধায়কের।
বাকসাড়া রেল ক্রসিংয়ের উপর নির্ভরশীল হাওড়া শহরের ৪০, ৪১, ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষাধিক বাসিন্দা। সাঁতরাগাছি-বাকসাড়া এলাকা থেকে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কার্যত এই রেলগেটই একমাত্র ভরসা। কিন্তু সারাদিন ঘনঘন ট্রেন চলাচলের কারণে দীর্ঘক্ষণ গেট বন্ধ থাকায় রেল ক্রসিংয়ের দু’পাশে তৈরি হয় বিশাল যানজট। ছোট-বড় গাড়ি, অটো, টোটোর পাশাপাশি আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সও।
একই দুর্ভোগের ছবি রামরাজাতলা রেল ক্রসিংয়েও। সেখানে আন্ডারপাস না থাকায় ৫০ নম্বর ওয়ার্ড সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিত্যদিনের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। ব্যস্ত সময়ে যানজট সাঁতরাগাছি মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে জগাছা, অন্যদিকে রামরাজাতলার রাস্তায় দীর্ঘ যানজটে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জনজীবন। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বহু বছর ধরে রেল ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন বাসিন্দারা। কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনেও বিষয়টি অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছিল।
সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর দাবি, কয়েক দশক ধরে মানুষ একই দুর্ভোগ সহ্য করছে। অথচ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অতীতে কোনো সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বহু ক্ষেত্রে রেলগেটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে থেকে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বিধায়কের কথায়, প্রাথমিক আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। খুব শীঘ্রই রেল কর্তৃপক্ষ দুই রেল ক্রসিং পরিদর্শন করবে। আন্ডারপাস বা রেল ওভারব্রিজ- কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওভারব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে কিছু জমি সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। সেই কারণেই সবদিক খতিয়ে দেখে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে রেল। নিজস্ব চিত্র