Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি, কেতুগ্রামের বেগুনকোলায় ভিটেমাটি ছাড়ছেন অনেকেই

কাটোয়া শহর থেকে মাত্র তিন কিমি দূরে রয়েছে অজয় নদ ঘেরা ছোট্ট গ্রাম বেগুনকোলা। কেতুগ্রাম-২ ব্লকের নবগ্রাম পঞ্চায়েতের এই গ্রামে প্রায় ২০০পরিবারের বাস।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি, কেতুগ্রামের বেগুনকোলায় ভিটেমাটি ছাড়ছেন অনেকেই
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া শহর থেকে মাত্র তিন কিমি দূরে রয়েছে অজয় নদ ঘেরা ছোট্ট গ্রাম বেগুনকোলা। কেতুগ্রাম-২ ব্লকের নবগ্রাম পঞ্চায়েতের এই গ্রামে প্রায় ২০০পরিবারের বাস। নৌকায় অজয় নদ পেরিয়ে গ্রামে যেতে হয়। একটি মেঠো রাস্তা দিয়ে কাটোয়া-বোলপুর রোডে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু কয়েক দশকেও সেই রাস্তাটি পাকা করা হয়নি। যোগাযোগের এমন সমস্যায় অনেকেই ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। ফলে গ্রামে বহু পাকা বাড়ি লতাপাতায় ঢেকেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি কবে হবে, এই প্রশ্ন গ্রামবাসীদের।

Advertisement

কেতুগ্রাম-২ এর বিডিও শাশ্বতী দাস বলেন, বেগুনকোলা গ্রামে এখন দুয়ারে রেশন পরিষেবা পৌঁছয়। আমি ওই গ্রামে গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি, আগামী দিনে ওই রাস্তাটি পাকা করা হবে।
বেগুনকোলা গ্রামে একসময় কয়েক হাজার পরিবার বসবাস করত। কিন্তু ২০০০সালের বন্যায় ভাঙন-কবলিত বেগুনকোলা থেকে অনেকেই কাটোয়া শহরে চলে যান। সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। পুরো মোড়লপাড়া কাযর্ত জনশূন্য হয়ে পড়েছে। বছরভর বাড়িঘর, মন্দির-সবই ফাঁকা পড়ে থাকে। শুধু উত্তর ও মধ্য পাড়াটুকু বেঁচে আছে। অজয় পেরিয়ে কাটোয়া ও বেগুনকোলার মধ্যে যাতায়াত করতে খুবই দুর্ভোগ হয়। ঝোপজঙ্গলের ভিতরে বাপ-ঠাকুরদার ভিটে আঁকড়ে পড়ে আছে ২০০পরিবার। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে গ্রামটাকে বাঁচানো হোক-এটাই তাঁদের দাবি।
গ্রামের বাসিন্দা লালন হাটুই, ভুবন মণ্ডল বলেন, আমাদের এখানে ৪১০জন ভোটার রয়েছে। গ্রামের ভিতর ঢালাই রাস্তা থাকলেও অন্যত্র যেতে নৌকাই ভরসা। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে নৌকার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া গতি নেই। সেকারণে অনেকে গ্রাম ছেড়ে কাটোয়া শহরে অজয়ের বাঁধের ধারে বাস করছেন। অথচ গ্রামে তাঁদের পাকা বাড়ি আছে। কেউ না থাকায় ওই সমস্ত বাড়ি লতাপাতায় ঢেকেছে।
স্থানীয় বিকাশ দাস, বিশ্বনাথ থাণ্ডার বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে গ্রাম ছেড়ে এত মানুষ যেত না। গ্রামের ভিতর দিয়ে একটি মেঠো রাস্তা গিয়েছে। সেটি তরালিসেন পাড়া দিয়ে কাটোয়া-বোলপুর রোডে মিশেছে। সেই রাস্তা পাকা করলেই আমাদের সবসময় নৌকার উপর নির্ভর করতে হবে না। কিন্তু রাস্তাটি পাকা করা হচ্ছে না।
কার্তিক হাটুই বলেন, বন্যা হলে আমাদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। এলাকায় সাপের উপদ্রব আছে। আমাদের অন্য কোথাও বাড়ি করে থাকার সামর্থ্য নেই। খুবই কষ্টের মধ্যে আমরা দিন কাটাচ্ছি। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা অঞ্জলি দাস বলেন, রাস্তাটির কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দলীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, তাড়াতাড়ি রাস্তাটি সংস্কার করা হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ