নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দীঘার জগন্নাথধামের মেগা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে চার অতিরিক্ত জেলাশাসককে মাথায় রেখে কমিটি গড়া হল। বুধবার এই উপলক্ষ্যে তমলুকে জেলাশাসকের অফিসে মিটিং হয়। সেখানে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী ছাড়াও তিনজন অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, ভিআইপিদের রিসেপশন, পার্কিং, জগন্নাথধামের ভিতরে পুজো সহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড এবং মন্দিরের বাইরে উদ্বোধন উপলক্ষ্যে প্রতি মুহূর্তে দেখভালের জন্য চারজন অতিরিক্ত জেলাশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক অতিরিক্ত জেলাশাসকের সঙ্গে দু’-তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। ২৯ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসবেন। সঙ্গে হিডকোর চেয়ারম্যান তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মুখ্যসচিব সহ রাজ্য প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ অফিসার এবং হিডকোর অফিসাররা থাকবেন।
আগামী শুক্রবার জেলাশাসক সহ জেলা প্রশাসনের একটি বড় টিম দীঘা জগন্নাথ মন্দির পরিদর্শনে যাবে। প্রস্তুতির কাজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তারা মিটিং করবে। সেখানে কোন টিম কী কাজ করবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই মুহূর্তে মন্দিরের সামনে ১১৬বি জাতীয় সড়ক বরাবর সুসজ্জিত পার্ক তৈরির কাজ চলছে। পার্কে নানা রঙের আলো থাকবে। জাতীয় সড়কের গা বরাবর নালায় জলভর্তি করে সেখানে ফোয়ারা হবে। এই মুহূর্তে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। চৈতন্যদ্বারের কাজও জোর কদমে চলছে।
জানা গিয়েছে, জগন্নাথ মন্দির লাগোয়া জেলা পরিষদের গেস্ট হাউসটি হিডকো নিয়েছে। মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই ওই গেস্ট হাউসের একটি অংশে ট্রাস্টের অফিস হবে। ট্রাস্টের যাবতীয় কাজকর্ম এই অফিস থেকেই করা হবে। এছাড়াও, ওই বিল্ডিংয়ে দমকল, স্বাস্থ্যদপ্তর এবং পুলিসের ক্যাম্প থাকবে। জেলা পরিষদের কাছ থেকে হিডকো নেওয়ার পর বিল্ডিংটিকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। সর্বসাধারণের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে যাওয়ার পরই সেখানে ২৪ঘণ্টা ইলেক্ট্রিক ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা ব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ রাখতে প্রশাসনের তরফে জেনারেটর বসানো হয়েছে। এছাড়াও, তিনটি সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল থেকে পাঁশকুড়া-দীঘা অতিরিক্ত একজোড়া লোকাল ট্রেন চালানো শুরু করেছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল। এর ফলে রেলপথে যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে। আগামী দু’মাস লোকাল ট্রেন চালু থাকবে। জগন্নাথধাম উদ্বোধনের সময় অতিরিক্ত পর্যটক দীঘায় পৌঁছবেন। বাড়তি ট্রেন থাকায় তাঁদের সুবিধা হবে।
জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আমরা বেশ কয়েকটি মিটিং করেছি। অতিরিক্ত জেলাশাসককে মাথায় রেখে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটরা থাকবেন। শুক্রবার আমরা প্রস্তুতির কাজ খতিয়ে দেখতে দীঘায় যাব। সেখানে আর এক দফা মিটিং হবে।-ফাইল চিত্র