Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬

৬ অক্টোবর কমিশন অভিযান ‘ইন্ডিয়া’র

জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে টেনে নামানো এবং ‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে দেশব্যাপী আন্দোলন। এজেন্ডা স্থির করে নিল বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’

৬ অক্টোবর কমিশন অভিযান ‘ইন্ডিয়া’র
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে টেনে নামানো এবং ‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে দেশব্যাপী আন্দোলন। এজেন্ডা স্থির করে নিল বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’। বুধবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম সহ ১৯ বিজেপি বিরোধী দলের বৈঠক। তাতেই সিদ্ধান্ত হল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যুত করতে লোকসভা-রাজ্যসভায় নোটিস দেওয়ার কমর্সূচি আপাতত স্থগিত। এখন রাস্তায় নামবে বিরোধী জোট। বৈঠক শেষ করেই অশোক রোডে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিযানের প্রস্তাব দেন মমতা এবং সিপিআই (এমএল)-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। সোনিয়া গান্ধীও তাতে সায় দেন। বাকিরা অবশ্য বলেন, আগে ‘আন্দোলনের একটা আবহ তৈরি হোক। ধীরে ধীরে পারদ চড়াতে হবে।’ সেই মতো ঠিক হয়, আগামী ৬ অক্টোবর হবে ‘নির্বাচন সদন’ অভিযান। বাংলার উপনির্বাচনের দিন। সেখানে যোগ দেবেন ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদরা। 

Advertisement

একটিই সুরে বাঁধা হয়ে গিয়েছে বৈঠক—বিজেপিকে হটাতে হবে। আর পরিস্থিতি যা, তাতে তীব্র করে তুলতে হবে ব্যালটে ভোটের দাবি। একজোট না হলে যা সম্ভব নয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে সাফ মন্তব্য করেন, ‘এই অভিযানই হোক বা সমাবেশ, ভোট চুরি ইস্যুতে বিজেপিকে কোণঠাসা করতে চাইলে সব বিরোধী দলেরই একজোট হওয়া উচিত।’  বৈঠকে যোগ না দেওয়া ডিএমকে এবং আম আদমি পার্টিই যে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, তা বলাই বাহুল্য। রাহুল গান্ধী বরং ইতিবাচক সুরে বলেন, ‘আপনারা একা বিজেপির সঙ্গে লড়ে পারবেন না। আমরা একা পারব না। বাট, টুগেদার উই ক্যান। একজোট হলেই বিজেপি-বধ সম্ভব।’ সেই মতো ঠিক হয় জোটের কর্মসূচি। ২-৮ অক্টোবর জেলাস্তরে গণতন্ত্র বাঁচাও মিছিল, জেলাশাসকের অফিসের সামনে বিক্ষোভ। ৬ তারিখ নির্বাচন সদন অভিযান। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাইবেন ইন্ডিয়ার নেতা-নেত্রীরা। ১ নভেম্বর দিল্লিতে জনসভা। আগামী দিনে কলকাতা, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরুর পাশাপাশি আরও একটি শহরে হবে এমন সভা। কেউ কেউ চাইছেন, সেটি হোক গুজরাত বা উত্তরপ্রদেশের কোনো শহরে।
বৈঠকে ঠিক হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের যে আইন রয়েছে, সেটিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করা হবে। মমতা, খাড়্গে, রাহুল, এম এ বেবি, ওমর আবদুল্লার মতো বিজেপি বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই পিটিশনে সই করবেন। নির্বাচন কমিশনের আইটি বিভাগের ডিজি সীমা খান্নার বিরুদ্ধে এফআইআর করার পরামর্শ দেন বৈঠকে উপস্থিত নির্দল সাংসদ কপিল সিবাল। বলেন, ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের আইনি রক্ষাকবচ আছে। কিন্তু সীমা খান্নার তো নেই!’ সীমা খান্নাকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন মমতাও। কমিশনের কাজকর্মের বরাত কোন বেসরকারি সংস্থা পাচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখার কথা বলেছেন। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সাফ মন্তব্য ছিল, ‘আমাদের আসল লড়াই আরএসএসের বিরুদ্ধে।’ মুম্বই থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন উদ্ধব থ্যাকারে। বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার দল ভাঙার খেলায় নেমেছেন। দেশের প্রধান বিচারপতির ভূমিকাও সন্দেহজনক। কীভাবে বাংলার উপনির্বাচনে ১৮ হাজার ভোটারের বাদ থাকার বিষয় হালকাভাবে নিচ্ছেন তিনি?’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ