নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, বোলপুর: ‘ভারতরত্ন’ নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকেও দিতে হবে নাগরিকত্বের প্রমাণ! বুধবার দুপুরে ৯২ বছর বয়সি অর্থনীতিবিদের বাড়ি প্রতীচীতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এসআইআরের শুনানির নোটিস দিলেন বিএলও-এইআরও। তাঁকে হেনস্তা করাই এই নোটিসের মূল উদ্দেশ্য বলেই অভিযোগ পরিবারের। কারণ, তাতে লেখা রয়েছে— নোবেলজয়ীর সঙ্গে তাঁর বাবা বা মায়ের বয়সের ফারাক ১৫ বছরের কম! আগামী ১৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় অমর্ত্যবাবুকে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ সহ নিজের বাড়িতেই উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। কমিশনের কর্তারা এসে নথির সত্যতা যাচাই করবেন।
মঙ্গলবার রামপুরহাটের সভায় বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘হায় রে পোড়া কপাল! আসতে আসতে শুনছিলাম, অমর্ত্য সেনকে নোটিস পাঠিয়েছে। ভারতের জন্য নোবেল পুরস্কার জিতে এনেছেন। যাঁর হাত ধরে দেশ সমৃদ্ধ হয়েছে, তাঁকে এসআইআরের নোটিস পাঠিয়েছে!’ এদিন তাঁর বক্তব্য সত্যি করেই প্রতীচীতে এসে হাজির হন অতিরিক্ত ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) তানিয়া রায় এবং বিএলও সোমব্রত মুখোপাধ্যায়। অমর্ত্যবাবু বর্তমানে বিদেশে। তাঁর মামাতো ভাই শান্তভানু সেনের হাতেই নোটিস ধরিয়ে যাওয়া হয়েছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ আদৌ নির্দিষ্ট দিনে উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, সামান্য ত্রুটির জন্য অমর্ত্যবাবুকে সশরীরে শুনানিতে অংশ নিতে হবে না। বিএলও নথি দেখে সমস্যার সমাধান করে দেবেন। শান্তভানুবাবু বলেন, ‘কমিশনের তরফে একটি নোটিস দেওয়া হয়েছে। অমর্ত্য সেনকে হেনস্তা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।’
কমিশন সূত্রে খবর, অমর্ত্য সেনের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। তার আগের ও পরের তালিকায় রয়েছে। ২০২৫ সালের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। এক ইআরও বলেন, যেহেতু ২০০২ সালের তালিকায় অর্থনীতিবিদের নাম ছিল না। তাই তিনি মায়ের নথি দিয়ে ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন। সেখানেই হয়তো এই ত্রুটি ধরা পড়েছে। মা অমিতা সেনের সঙ্গে অমর্ত্যবাবুর বয়সের ফারাক ১৫ বছরের কম হওয়ায় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় ‘রিভেরিফাই’-এর আওতায় এসেছে। তার জন্যই শুনানির নোটিস।
অমর্ত্যবাবুর মা অমিতা সেন ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিশ্বভারতীর আশ্রম-গুরু ক্ষিতিমোহন সেনের কন্যা। ১৯৩২ সালে আশুতোষ সেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। শান্তিনিকেতনের নবরত্ন কুটিরে তাঁদের আশীর্বাদ করেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯৩৩ সালে অমর্ত্যবাবুর জন্ম। তাঁর নামকরণও করেছিলেন কবিগুরু। অর্থনীতিবিদের বাড়ির দায়িত্বে থাকা গীতিকণ্ঠ মজুমদার বলেন, ‘অমিতাদেবীর জন্ম ১৯১৪ সালে। অমর্ত্য সেনের সঙ্গে অমিতাদেবীর বয়সের ফারাক ১৯ বছর ছ’মাস। বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক ৩৩ বছর।’ যদিও কমিশন সূত্রের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গেরোতেই নোবেলজয়ীর এই বিপত্তি!