নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মৃত রোগীকে সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা। একই সঙ্গে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ। কালিয়াচকের সুজাপুরে অভিযুক্ত সেই নার্সিংহোম পরিদর্শন করল ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশনের (ডব্লিউবিসিইআরসি) চার সদস্যের প্রতিনিধি দল।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ প্রতিনিধি দলটি কালিয়াচকের সুজাপুরের ওই নার্সিংহোমে পৌঁছয়। কমিশনের সদস্যরা প্রথমেই কথা বলেন নার্সিংহোমের চার চিকিৎসকের সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে একজন সার্জেন, একজন অ্যানাস্থেটিস্ট, একজন মেডিসিনের চিকিৎসক ও অন্যজন আরএমও ছিলেন। যে রোগীর মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, ওই চার চিকিৎসক সেই রোগীর গলব্লাডারের অস্ত্রোপচার করেছিলেন।
এরপর কমিশনের সদস্যরা কথা বলেন নার্সিংহোমের নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে। নার্সিংহোমের আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, ল্যাবরেটরি সহ অন্যান্য পরিকাঠামো তাঁরা ঘুরে দেখেন। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২ জুলাই শুনানির দিন ঠিক হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সে এই শুনানি হবে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ এবং রোগীর পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিন রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে আসা প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডব্লিউবিসিইআরসি’র সদস্য চিকিৎসক এমএল সাহা। তাঁর নেতৃত্বেই এদিনের পরিদর্শন হয়। অন্য তিনজন হলেন, কমিশনের সদস্য মাধবী দাস, সহ সচিব সৌগত বসু এবং সেকশন অফিসার দেবেশ কুমার রায়।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গলব্লাডারের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে মৃত্যু হয় এক যুবকের। তাঁকে মৃত ঘোষণা না করেই স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ।
রোগীর পরিবারের কাছ থেকে এই অভিযোগ পেয়ে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর ও প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি দল নার্সিংহোমে পৌঁছলে তাঁদের সামনেই মৃতের বুকে পাম্প করে বাঁচানোর অভিনয় করা হয় বলে অভিযোগ।