নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভুয়ো ভোটার কার্ড ইস্যুতে বাজেট অধিবেশনে আলোচনা চায় তৃণমূল। এব্যাপারে প্রায় প্রতিদিনই রাজ্যসভায় নোটিস জমা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকার তা অনুমোদন করছেন না। এনিয়েই বুধবার হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন—‘বিধি মেনে নোটিস দিচ্ছি। কিন্তু আলোচনা না হলে আমরাও পাল্টা প্রতিবাদ করব। এখন তো স্রেফ নোটিস, পিকচার আভি বাকি হ্যায়।’ দলীয় সূত্রে খবর, ভুয়ো ভোটার কার্ড, ক্লোনড আধার ইস্যুতে আলোচনা না হলে লোকসভা-রাজ্যসভায় বিক্ষোভ প্রতিবাদ তো বটেই, এমনকী সংসদ চত্বরে ধর্ণার পরিকল্পনা করছে তৃণমূল। বিরোধীরা সরব হতেই নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। এদিন দিল্লির কাকরোলায় নির্বাচন কমিশনের সংস্থা ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টে (আইআইআইইডিএম) এক বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) ডেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ছিলেন অসম এবং বিহারের বিএলও’রাও। প্রশিক্ষণ পর্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে যখন ভোটার পরিচয়পত্র পরীক্ষার সময় অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে। কোনওভাবেই যেন ভুয়ো ভোটারের নাম তালিকায় না থাকে। দেশের প্রায় ১০০ কোটি ভোটারের স্বার্থেই কাজ করবে ভারতের নির্বাচন কমিশন। প্রশিক্ষণ শিবিরে বাংলা, বিহার এবং অসমের ১০৯ জন বিএলও’র পাশাপাশি হাজির ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির ৩৭ জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (ডিইও)। এদিকে, এবার থেকে ভোটার পরিচয়পত্রের সঙ্গে যারা আধার নাম্বার সংযুক্তিকরণ করতে চাইবে না, তাদের ‘কারণ’ দর্শাতে হতে পারে। নির্বাচন কমিশন এমনই উদ্যোগ নিচ্ছে বলে শোনা গিয়েছে। সম্প্রতি কমিশন, আইনমন্ত্রক এবং আধার কর্তৃপক্ষের বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি। যদিও এদিন কমিশন এই ইস্যুতে কোনও প্রশ্নের জবাব দেয়নি।



