Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কবির ছদ্মনাম বুঝল না কমিশন! মেয়েকে শুনানির নোটিস, ক্ষোভ

কবি ভাস্কর চক্রবর্তীর একটি কবিতার লাইন বহুল প্রচারিত। ‘শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা? আমি তিনমাস ঘুমিয়ে থাকব।’ শহরে শীত এসেছে।

কবির ছদ্মনাম বুঝল না কমিশন!  মেয়েকে শুনানির নোটিস, ক্ষোভ
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: কবি ভাস্কর চক্রবর্তীর একটি কবিতার লাইন বহুল প্রচারিত। ‘শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা? আমি তিনমাস ঘুমিয়ে থাকব।’ শহরে শীত এসেছে। কিন্তু কবির পরিবারের ঘুমিয়ে থাকার অবকাশ নেই। কারণ, এসআইআর। প্রয়াত কবির আসল নাম আর ছদ্মনামের প্যাঁচে কবি-কন্যাকে শুনানির নোটিস ধরানো হয়েছে। কবির স্ত্রী বাসবী চক্রবর্তী বলছেন, ‘এসব হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়’। ভোগান্তি চলছে সর্বস্তরেই। পানিহাটিতে শুনানির লাইনে পড়ে গিয়ে মাথা ফাটল বৃদ্ধের। বনগাঁয় শুনানিতে এসে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিশেষভাবে সক্ষম এক ব্যক্তি।

Advertisement

কবি ভাস্কর চক্রবর্তী ২০০৫ সালে মারা যান। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল বিষ্ণুময় চক্রবর্তী। কিন্তু তিনি কবিতা লিখতেন ভাস্কর চক্রবর্তী নামে। কবি কন্যা বর্তমানে অধ্যাপক প্রৈতী চক্রবর্তীর যাবতীয় নথিতে ভাস্কর চক্রবর্তী নামটিই রয়েছে। এখানেই ম্যাপিংয়ের সমস্যা। কবি পত্নী বরানগর বিধানসভার বাসিন্দা বাসবী চক্রবর্তী বলছিলেন, ‘সারারাত খুঁজে খুঁজে নথি বার করছি। ভাস্করের একটা এফিডেফিট পেলাম। যেখানে লেখা আছে, বিষ্ণুময় ও ভাস্কর একই ব্যক্তি। মেয়েকে ভাস্করের কবিতার বইও নিয়ে যেতে বলেছি। এখন শুনছি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট নেবে না। এসব মেনে নেওয়া যায় না।’

ক্ষোভের আঁচ অনত্র সমানে চলছে। সোদপুর হাইস্কুলে পানিহাটি পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের এসআইআরের শুনানি চলছিল। সেখানে পচাঁত্তর বছরের বৃদ্ধ সমীর ঘাঁটি দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মাথা ঘুরে পড়ে যান। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কামারহাটির সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঘটনায় নিবার্চন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়ান পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে।

বনগাঁয় শুনানিতে এসে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিশেষভাবে সক্ষম এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, এই হয়রানির চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। শুক্রবার বনগাঁ সিনিয়র মাদ্রাসায় শুনানিতে আসেন দিঘারী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিশেষ ভাবে সক্ষম ৫০ বছরের শহিদুল মণ্ডল। ১৪০০ টাকা ভাড়া দিয়ে টোটোয় চেপে শুনানিতে এসেছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদরাও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। টিটাগড় পুরসভার ১৬ বছরের কাউন্সিলার, ১২ বছরের চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরীকে শুনানিতে হাজিরা দিতে হয়েছে। শুনানিতে হাজির হয়ে প্রশান্তবাবু বলেন, ‘১৯৪৬ সাল থেকে আমাদের বাড়ি। ৭৭ সাল থেকে ভোটার তালিকায় আমার নাম রয়েছে। সেই থেকে আমি ভোট দিয়ে আসছি। আজ আমাকে শুনানিতে হাজির হতে হল। সমস্ত তথ্য নিয়ে এসেছি।’

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার উলুবেড়িয়া ১ নং বিডিও অফিসে শুনানিতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন মুসিবর সর্দার। তাঁকে উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে ভরতি করা হয়েছিল। তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান উলুবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান অভয় দাস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ