Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোটে ‘হাঙ্গামাকারী’ দাগীদের মোবাইল নম্বর চাইল কমিশন

এতকাল নির্বাচন কমিশন আইন শৃঙ্খলা রিপোর্টে রাজ্যের কাছে ভোটে হাঙ্গামাকারী দাগী বা ‘হিস্ট্রি শিটার’দের শুধুই নামের তালিকা চাইত।

ভোটে ‘হাঙ্গামাকারী’ দাগীদের মোবাইল নম্বর চাইল কমিশন
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: এতকাল নির্বাচন কমিশন আইন শৃঙ্খলা রিপোর্টে রাজ্যের কাছে ভোটে হাঙ্গামাকারী দাগী বা ‘হিস্ট্রি শিটার’দের শুধুই নামের তালিকা চাইত। এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হল, ‘হিস্ট্রি শিটার’দের মোবাইল নম্বরও। রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের একাংশের আশঙ্কা, ‘ভোটের সময় কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে দাগীদের ওপর সরাসরি ‘নজরদারি’ চালানোর জন্য এই পদক্ষেপ কমিশনের। যা কার্যত নজিরবিহীন। ’

Advertisement


আগামী ৫ জানুয়ারি সোমবার থেকেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার সহ রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সাপ্তাহিক রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে। নির্বাচন কমিশন এই সংক্রান্ত একটি লিখিত নির্দেশিকা জারি করেছে। ভোট সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার এই রিপোর্ট পাঠাতে হবে কমিশনে। রাজ্যের অভিজ্ঞ আমলা মহলের মতে, ‘কার্যত ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার অনেক আগে থেকে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালাতে শুরু করে দিল নির্বাচন কমিশন।’ আসন্ন বিধানসভা ভোটে রাজ্য প্রশাসনের পাঠানো এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থেকে শুরু করে স্পর্শকাতর বুথ, চিহ্নিত করার মতো পদক্ষেপ করবে কমিশন। প্রসঙ্গত, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ঠিক কত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন, তা ঠিক করতে সোমবার রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা। 


আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিশনের নির্দেশিকা প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্য পুলিশের এক কর্তা স্বীকার করেন, ‘স্বাভাবিকভাবে অস্বস্তিকর হলেও, রাজ্য প্রশাসনের পাঠানো প্রথম রিপোর্টেই উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং পুলিশকে আক্রমণের ঘটনার উল্লেখ করতে হবে। এভাবেই চলতি সপ্তাহ থেকে কলকাতা সহ রাজ্যের সব প্রান্তের প্রতিটি গ্রেপ্তারি থেকে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রতিটি ঘটনার উপর নজরদারি চালাবে কমিশন।’ আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নির্দেশিকায় নির্বাচন কমিশন মোট ১৪টি মাপকাঠি ধার্য করে দিয়েছে। তবে রিপোর্ট পাঠানোর এবারের ফরম্যাটে বেশ কিছু রদবদল করা হয়েছে।  কমিশন রাজ্যের কাছে যে সব তথ্য জানতে চাইছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বিধানসভা কেন্দ্রের নাম, কতগুলি স্পর্শকাতর ও অতিস্পর্শকাতর কেন্দ্র এবং সেখানকার দাগীদের নাম। ভোটে  হাঙ্গমার রেকর্ড রয়েছে, এমন দাগীরা আইনের হেপাজতে নাকি বাইরে রয়েছে, তা জানাতে হবে রিপোর্টে। বাইরে থাকলে, তারা কেন বাইরে রয়েছে, তাও জানতে চাওয়া হচ্ছে।   
পুলিশ প্রশাসন এক বিশেষ সূত্রের খবর, ‘তবে এবার কমিশনের নির্দেশিকায় ‘এ-থ্রি’ ফরম্যাটে দাগী দুষ্কৃতীদের নামের তালিকার সঙ্গে যে ভাবে মোবাইল নম্বর তলব করা হয়েছে, তাতে আপাত নিরীহ হলেও, বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ